ফরিদপুরে ৭৮১ মন্ডপে দুর্গাপূজা: নিরাপত্তায় নানা ব্যবস্থার নির্দেশ
পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ লোডশেডিং কমিয়ে রাখা এবং বিশেষ করে শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন।
জেলার ৭৮১টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে পূজা উদযাপন কমিটি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে পূজার প্রস্তুতি বিষয়ক এ সভায় জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। মণ্ডপগুলোতে পোশাকধারী পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিশেষ পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজার সময় সবাইকে পারস্পরিক সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে জেলা পুলিশ সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সভায় প্রতিমা বিসর্জনের নির্ধারিত সময়সূচি ও রুট যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে মাগরিব ও এশার নামাজের সময় উচ্চস্বরে ঢাক-ঢোল বা বাদ্যযন্ত্র না বাজানোর জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা ফরিদপুর পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ লোডশেডিং কমিয়ে রাখা এবং বিশেষ করে ফরিদপুর শহরে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী (যুগ্ম মচিব) বাকাইদ হোসেন, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক (উপ-সচিব) ইলিয়াছুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুস্মিতা সাহা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা পূজা উদযাপন কমিটির বিধান কুমার সাহাসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
