২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

“স্বাস্থ্যসেবা কোনো প্রিভিলেজ বা দয়া নয়, এটা সাংবিধানিক অধিকার।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 08:28 PM

Updated : 22 Sep 2026, 08:29 PM

সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, “সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক গজিয়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকে অনিয়ম পাওয়া গেলে সিলগালা করে দেওয়া হবে।

“লাইসেন্স না থাকা, লাইসেন্স নবায়ন না করা, দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ফার্মাসিস্ট না থাকা, নিজস্ব ডাক্তার ও লেবার রুম না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মঙ্গলবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কারাগারের ভেতরে ছিলাম। আমাদের গণতন্ত্র ছিল না। একটা ফ্যাসিস্ট গ্রুপ দেশ শাসন করেছে, আমাদেরকে অত্যাচার করেছে। আপনারা সাংবাদিকরা কথা বলতে পারেননি।

“তাদের একটা গ্রুপ দেশের প্রভাবকে আরেকটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দেশে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক অধিকার বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছে। রাতে ভোট কাটা হয় নাই। নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।”

“গণতান্ত্রিক অধিকারকে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য যারা চেষ্টা করতেছে, তারা আমাদের শত্রু। তারা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী। কঠোর হস্তে তাদেরকে দমন করা হবে” বলেন সাখাওয়াত হোসেন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর একটা পর্যায়ে রোগীর প্লাজমা লিকেজ হতে পারে। প্লাজমা লিকেজ যাতে না হয় কিংবা হলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়, সেজন্য চিকিৎসকদের প্রত্যেক রোগীর ওপর নজর রাখতে হবে। সারা বাংলাদেশে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ড্রাম, টায়ার, টিউব, নারিকেলের ছোবড়া, ছাদের টবসহ যেসব স্থানে পানি জমে লার্ভা সৃষ্টি হতে পারে, সেসব স্থান পরিষ্কার রাখতে হবে।

জনগণকে সচেতন করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা কোনো প্রিভিলেজ বা দয়া নয়, এটা সাংবিধানিক অধিকার। এটাকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

“প্রত্যেক উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০টি, শিশুদের জন্য ২০টি এবং ডায়ালাইসিসের জন্য ১০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।”

আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ১০টি করে ডায়ালাইসিস শয্যা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে মুন্সীগঞ্জের কিডনি রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় বা নারায়ণগঞ্জে যেতে হবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ইউনিয়ন পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে নতুন করে হেলথ সেন্টার করা হবে। সেখানে এমবিবিএস ডাক্তার, নার্স ও মিডওয়াইফ থাকবেন। প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে একটি করে হেলথ হাব বা পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর আগে মতবিনিময় সভায় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বক্তব্য দেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে এতে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদাত মানু, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বক্তব্য দেন। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।