গাজীপুরে সাবেক স্ত্রীকে রেললাইনে ডেকে নিয়ে গলাকেটে হত্যা
সাড়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিকুলের সঙ্গে মোবাইলে আসমার বিয়ে হয়। দেশে ফেরা রফিকুলকে ২০ দিন আগে তালাক দেন স্ত্রী।
গাজীপুরের হায়দ্রাবাদ এলাকায় রেললাইনে ডেকে এনে সাবেক স্ত্রীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার বিকালে পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় মাউরারটেকে ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পূবাইল থানার ওসি আতিকুর রহমান।
নিহত আসমা আক্তার (১৮) নওগাঁর মান্দা থানার মৌনম এলাকার আবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরের খাইলকৈর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পড়তেন স্থানীয় মাদ্রাসায়।
আটক রফিকুল ইসলাম (২৮) নওগাঁ জেলার মান্ধা থানার ডাংগা গ্রামের মৃত সিরাজ মণ্ডলের ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিকুল গত ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরেছেন।
নিহতের বাবা আবুল হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোবাইলে মালেয়শিয়া প্রবাসী রফিকুলের সঙ্গে কিশোরী আসমার বিয়ে হয়। তার দাবি আসমার নানা জোর করে এ বিয়ে দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি রফিকুল দেশে ফেরার পর পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০ দিন আগে রফিকুলকে তালাক দেন আসমা। পরে তিনদিন আগে রফিকুল লোকজন নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে আসমাকে আনতে যান। কিন্তু আসমা তার সঙ্গে যেতে রাজি হননি।
এক পর্যায়ে রোববার দুপুরে মোবাইলে আসমাকে হায়দ্রাবাদ রেললাইন এলাকায় গিয়ে দেখা করতে বলেন রফিকুল। আছমা সেখানে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় আসমাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওসি আতিকুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা রফিকুলকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। তবে ঘটনাটি রেললাইনের সীমানায় হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আটক ব্যক্তিকে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নূর আলম বলেন, রফিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদি হয়ে মামলা করেছেন।
