Published : 23 Jul 2023, 03:02 PM
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ বলছে- দাদনের পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
লাকসাম থানার ওসি মো. আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, শনিবার মধ্যরাতে লাকসাম পৌর শহরের গন্ডামারা এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর দোকানের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আউয়াল হোসেন সিয়াম ওরফে মনা (২২) লাকসাম পৌর শহরের জবাইখানা এলাকার বাসিন্দা সরাফত আলীর ছোট ছেলে। তিনি লাকসাম পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় মনার সঙ্গে থাকা পাশের বিনই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমকেও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি লাকসামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসি মাহফুজ জানান, ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীর ঘটনার বিস্তারিত পুলিশকে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরও জানান, মনা পাশের কালোরা খাল পাড় এলাকার হকার সবুজকে ভাঙারি মালামাল কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাদন দেয়।
কিন্তু সবুজ বেশ কিছুদিন কাজ না করলে শনিবার রাতে মনা তার কাছে পাওনা দাদনের টাকা ফেরত চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এক পর্যায়ে মনা এবং তার সঙ্গে থাকা জাহাঙ্গীরকে ছুরিকাঘাত করে সবুজ। আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীর দৌড়ে পালিয়ে গেলে মনাকে একা পেয়ে তার বুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সবুজ। এরপর লাশ দোকানের পাশে ঝোপে রেখে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রোববার সকালে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, “আমরা ঘটনাটি ভালোভাবে তদন্ত করে দেখছি। এছাড়া খুনে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। ”
নিহত মনার বড় ভাই অলিউল্লাহ লিটন বলেন, “হকার সবুজের কাছে দাদনের পাওনা টাকা চাইতে গেলে সে আমার ছোট সিয়ামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দোকানের পাশে ঝোপের মধ্যে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”