সাজেকের বনানী বন বিহারে হচ্ছে না কঠিন চীবর দানোৎসব
দুইটি স্থানীয় সংগঠনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে।
রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাটের বনানী বন বিহারে এবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ‘কঠিন চীবর দানোৎসব’ হচ্ছে না।
সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বনানী বিহারের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা।
বিহারের কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বনানী বন বিহারে আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অনিবার্য কারণে বাতিল ঘোষণা করা হলো।
“২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির এক সিদ্ধান্তক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, সকল দায়ক-দায়িকা, ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকা, ভক্তবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের বিষয়টি অবগত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সড়কে স্থানীয় দুই সংগঠনের গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে।
সাজেক এলাকা থেকে জেএসএস সন্তু লারমার লোকজনকে সরানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের এই অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। টানা এ অবরোধের কারণে সাজেক সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘাইহাট বনানী বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা বলেন, “একটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে থেকে একটা প্রস্তুতি লাগে। কিন্তু সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মানুষজনের উপস্থিতিও কম, সাজেক সড়কে যানচলাচল বন্ধ, বাজারও মিলতেছে না।
“যার কারণে সব কিছু বিবেচনা করে এবারে আমাদের কঠিন চীবর দানোৎসব না করার সিদ্ধান্তটা নিতে হয়েছে”, বলেন তিনি।
