মুন্সীগঞ্জে বসতঘরের আগুনে প্রাণ গেলে দেবর-ভাবির
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, বাড়িটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় এবং রাস্তা না থাকায় নৌকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় বসতঘরে আগুন লেগে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লৌহজং থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবী ।
নিহতরা হলেন, ইমরান হোসেন (২৬) ও তার ভাবি নাছরিন আক্তার (২৩)। নাছরিন ওই এলাকার নূর ইসলাম খানের মেয়ে।
নূর ইসলাম খান বলেন, “আমার মেয়ে, মেয়ের জামাই শুভ ও দেবর ইমরান কয়েকদিন আগে বেড়াতে আসে। সকালে শুভ তার ব্যবসার কাজে ঢাকায় যান। মেয়ে ও মেয়ের দেবর বাসায় ছিলেন।
“হঠাৎ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘরে আগুন লেগে যায়। আমরা প্রাথমিকভাবে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে ফায়ার সার্ভিসকে কল করে জানাই।
“কিন্তু ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই ঘরসহ আমার মেয়ে ও তার দেবর আগুনে পুড়ে মারা যায়।”
লৌহজং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে বাড়িটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় এবং রাস্তা না থাকায় নৌকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
“পরে প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় দুটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী, অপরজন পুরুষ।”
বৈদ্যুতিক শটসার্কিট থেকে ঘরটিতে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবী বলেন, দুইজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, “নিহত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে পুড়ে যাওয়া ঘর পুনঃস্থাপনের জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান ইউএনও।
