নড়াইলে পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, মিলেমিশে বসবাস
নামাজের সময় বন্ধ থাকে পূজার গান-বাজনা, নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার আয়োজন।
নড়াইল পৌরসভার মহিষখোলা এলাকায় পাশাপাশি রয়েছে মসজিদ ও মন্দির।
এক পাশে ‘পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদে’ নামাজ আদায় কার হয়, অন্য পাশে মাত্র ৩০-৪০ ফুট দূরে ‘মহিষখোলা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে’ চলে পূজা-অর্চনা।
নামাজের সময় বন্ধ থাকে পূজার গান-বাজনা, নামাজ শেষে আবার শুরু হয় পূজার আয়োজন। এভাবেই বছরের পর বছর মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।
পূজামণ্ডপে ঘুরতে আসা কলেজছাত্রী অণিতা দাস বলেন, “একই জায়গায় মসজিদে নামাজ আর মন্দিরে পূজা হতে দেখে ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ একে অপরের ধর্মকে সম্মান করেন।”
মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা যার যার ধর্ম পালন করি। নামাজের সময় পূজার গান-বাজনা বন্ধ থাকে। নামাজ শেষে আবার শুরু হয়। এ নিয়ে কখনও সমস্যা হয়নি।”
মহিষখোলা সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভংকর সরকার টুপাল বলেন, “এখানে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করি। আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করি। প্রায় ৪১ বছর ধরে এখানে দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন পূজা হচ্ছে। কখনও কারও সঙ্গে মনোমালিন্য হয়নি।”
মসজিদের খতিব হাফেজ এনামুল হক বলেন, “আমরা আমাদের ধর্ম পালন করি, তারা তাদের ধর্ম পালন করেন। এতে কোনো সমস্যা হয় না। ইসলাম অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে শেখায় না, বরং সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে শেখায়।”
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৫ সালে এলাকায় পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এর কয়েক মাস পর প্রতিষ্ঠা করা হয় মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুলাল ভট্টাচার্য বলেন, চলতি বছর নড়াইলের ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সহযোগিতা করছে।
নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছেন।
