পঞ্চগড়ে টাকাসহ এলজিইডির প্রকৌশলীকে পুলিশে দিল স্থানীয়রা
সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণ কাজের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয়রা।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সড়ক নির্মাণ কাজের মান নিয়ে অভিযোগের মধ্যে দেড় লাখ টাকাসহ এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের গিদালপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বোদা থানার ওসি মো. সোহেল রানা।
আটক নূর-ই আকরাম বোদা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো তার ব্যক্তিগত এবং নিজস্ব প্রয়োজনে তিনি সঙ্গে রেখেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ মোল্লা বলেন, সাকোয়া-নয়াদীঘি ভায়া বোয়ালমারী পাকা সড়কের নির্মাণ কাজের মান নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন। তবে সড়কের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী নূর-ই আকরাম তাদের অভিযোগে কর্ণপাত করছিলেন না।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে নির্মাণ কাজের স্থলে গেলে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন স্থানীয়রা। তারা উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কাছে কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে স্থানীয়রা তার পিছু নিয়ে পথ আটকে ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে তিনি রাজি হননি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
বোদা থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, পুলিশ স্থানীয়দের আটক করা ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করে এক লাখ টাকা পায়, এছাড়াও তার পকেট থেকে আরও ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে দেড় লাখ টাকাসহ তাকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, টাকার উৎস ও ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলার প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান বলেন, “দায়িত্ব পালনের সময় এত নগদ টাকা সঙ্গে বহনের সুযোগ নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে ঘুষ গ্রহণ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
