হরতাল-অবরোধে অর্থনীতির ‘বিরাট ক্ষতি’: পরিকল্পনামন্ত্রী
“এখনও ৯০ দিন বাকি। এর মধ্যেই মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখেছি, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
দেশের অগ্রগতি একটি গোষ্ঠী সহ্য করতে পারে না; ফলে তারা হরতাল-অবরোধ দিয়ে অর্থনীতির ‘বিরাট ক্ষতি’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
রোববার সকালে সুনামগঞ্জে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পাঠদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “রাজনীতির নাম ভাঙ্গিয়ে যারা দেশের সম্পদ ও জনগণের ক্ষতি করছে তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করে আগামীতে আবার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে দেশবাসী।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে এই মন্ত্রী বলেন, “এখনও ৯০ দিন বাকি। এর মধ্যেই মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখেছি, নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে দিন যত ঘনিয়ে আসবে নির্বাচনকে ঘিরে তত উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হবে।”
“তবে নির্বাচন নিয়ে যারা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন, মানুষ ভোটে গিয়ে তাদের সেই চিন্তাভাবনাকে ভাসিয়ে দেবেন”, বলেন তিনি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি স্বীকার করে এম এ মান্নান বলেন, “দাম বেড়েছে এটা সঠিক। আমরা চেষ্টা করছি নিয়ন্ত্রণে রাখার।”
তবে মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, “সুনামগঞ্জের মানুষকে ভালোবাসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার কল্যাণেই আমরা সুনামগঞ্জে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। আমাদের উন্নয়ন যাত্রাপথে একের পর এক কপাট খুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।”
তিনি বলেন, “আগামীতে শেখ হাসিনা সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিমানবন্দর ও রেললাইন করবেন। যাতে সহজে দেশের মানুষ টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ করে যেতে পারেন।”
সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মনোজিৎ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবু নাঈম, বিটাকের মহাপরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, জেলা পুলিশ সুপার মো. এহসান শাহ, সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. সামছুদ্দিন, জেলা সিভিল সার্জন আহমদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান বখত পলিন।
পরিকল্পনামন্ত্রী দিনব্যাপী তার নির্বাচনী এলাকায় নানা উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
কাঠইর, বগলাখাড়া, দরগাহপুর ব্রিজ, বাংলাদেশ শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), সুনামগঞ্জ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, মডেল মসজিদ, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-শান্তিগঞ্জ, মুনসী আরফান আলী ইউসেফ শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
