২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

রঙিন ফুলকপিতে প্রথমবারেই সাফল্য লতিফ মোল্লার

জানা যায়, বাজারে সাদার তুলনায় রঙিন ফুলকপির দাম কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বেশি।

রঙিন ফুলকপিতে প্রথমবারেই সাফল্য লতিফ মোল্লার

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, জাজিরাতে এ বছরই প্রথমবারের মত রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে।

কে এম রায়হান কবীর

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jan 2023, 07:24 PM

Updated : 30 Jan 2023, 09:48 PM

রঙিন ফুলকপি চাষ করে প্রথমবারেই সাফল্য পেয়েছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কৃষক আব্দুল লতিফ মোল্লা। 

সাধারণ মানুষ সাদা রঙের ফুলকপি দেখে অভ্যস্থ হলেও জাজিরার বাজারে ক্রেতারা এখন দেখছেন রঙিন ফুলকপি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে সাদার তুলনায় রঙিন ফুলকপির দাম কেজিতে ৪০/৫০ টাকা বেশি।

প্রথমবারের মত নিজের ১০ শতক জমিতে হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সোনার দেউল গ্রামের কৃষক আব্দুর লতিফ মোল্লা। 

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

Image

চারা রোপনের ৬৫ দিনের মাথায় রঙিন ফুলকপি বিক্রির উপযুক্ত হয়।

তিনি জানান, এসডিএস নামে স্থানীয় ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণকারী এনজিওর সমন্বিত কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি চাষের জন্য বীজ ও সার পান। নিজের ১০ শতক জমিতে প্রায় ১ হাজারটি চারা রোপন করেন তিনি। চারা রোপনের ৬৫ দিনের মাথায় ৬০ টাকা কেজি দরে হলুদ ফুলকপি বিক্রি শুরু করেন। 

তিনি আরও জানান, ১০ শতক জমিতে এই ফুলকপি চাষ করতে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে; বিক্রি হয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা।

হলুদ ফুলকপি বিক্রি শেষ হলেও বেগুনিগুলো তুলতে আরও সাত দিন সময় লাগবে বলে জানান আব্দুল লতিফ। 

রঙিন ফুলকপি চাষে আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “সাদা ফুলকপি চাষের মত রঙিন ফুলকপিও একইভাবে চাষ করতে হয়।”

Image

চারা রোপনের ৬৫ দিনের মাথায় রঙিন ফুলকপি বিক্রির উপযুক্ত হয়।

প্রতিদিন অনেক মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসছেন বলে জানান আব্দুল লতিফ। 

তার আশা, আগামী বছর এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে রঙিন ফুলকপির চাষ হবে।

পুরনো খবর:

গোলাপি, হলুদ, বেগুনি ফুলকপিতে রঙিন কৃষকের আশা

একই এলাকার আরেক কৃষক শাহাজাহান মাদবর। 

তিনি বলেন, “রঙিন ফুলকপি দেখতে অনেক সুন্দর, বাজারে এর চাহিদাও বেশি। আমার সাদা ফুলকপির তুলনায় আব্দুল লতিফ মোল্লা বেশি দরে তার হলুদ ফুলকপি বিক্রি করছেন।

“এসডিএস বীজ দিয়ে সহযোগিতা করলে আমিও আগামীতে রঙিন ফুলকপির চাষ করবো।” 

এসডিএসের কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজি আলম। 

তিনি বলেন, “বিদেশি সংস্থা পিকেএসএফ স্থানীয় এনজিও’র মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষিবীজ দেয়। সংস্থাটির সমন্বিত কৃষি ইউনিটের সহযোগিতায় এ অঞ্চলে ব্রোকলি, লেটুস, রেড বিট, রেড ক্যাবেজ, স্কোয়াস, ক্যাপসিকামের চাষ করা হচ্ছে। 

“এ বছরই প্রথম আব্দুল লতিফ মোল্লাকে হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপির বীজ দেওয়া হয়। আমরা কৃষকদের রঙিন ফুলকপি চাষে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি।   

“আশা করছি, আগামীতে এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে রঙিন ফুলকপির চাষ হবে।”

জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন।

তিনি বলেন, “জাজিরাতে এ বছরই প্রথমবারের মত কালার ফুলকপির চাষ হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে সার্বিক পরামর্শ ও স্থানীয় এনজিও এসডিএসের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন হয়েছে। স্বাভাবিক ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্থসায়ানিন এবং বিটা ক্যারটিন প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। ফলে এটি অধিক পুষ্টি বহন করে, যা মানুষের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের মত রোগ প্রতিরোধে যথেষ্ট কার্যকর। 

এ বছর জাজিরায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১ একর জমিতে রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে বলে তিনি জানান। 

আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এর চাষ হবে বলে আশা করছেন জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন।