জাহাঙ্গীরনগরের অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নিহত ও গর্ভপাত: বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় এক ইজিবাইক চালক নিহত ও এক নারীর গর্ভপাত ঘটে। এ ঘটনায় দোষীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন তারা।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি তুলেন শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হলো: ওই দুই পরিবারের দায় ক্যাম্পাসের নিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সবার বিচার করা এবং মেডিকেলের সব অব্যবস্থাপনা দূর করা।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে সাভারের বিপিএটিসি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স একটি ইজিবাইককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ইজিবাইকটির চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওই সময় ইজিবাইকে চারজন যাত্রী ছিলেন। এক নারী যাত্রীর গর্ভপাত ঘটে।
এ ঘটনায় জাবি শিক্ষার্থীদের সমাবেশে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমিক বাগচি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করার কথা, কিন্তু প্রায়ই দেখছি, এটি ব্যবহার হয় অনেকের পণ্য পরিবহন, পারিবারিক কাজ এবং মাদক পরিবহনে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা। হুট করে একদিনে এ ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে মদ আনতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি একটি ইজিবাইককে ধাক্কায় দেয় এতে এর চালক নিহত হন। ইজিবাইকের এক নারী যাত্রীর গর্ভপাত ঘরে। প্রশাসন এ হত্যার ঘটনাকে লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। আমরা স্পষ্টত বলে দিতে চাই, নিহত ইজিবাইক চালকের পরিবারের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, “ওই অ্যাম্বুলেন্সে শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা ছিলেন, যাদের ওপর দায়িত্ব ছিল, হলের পুনর্মিলনীর জন্য ঢাকা থেকে মদ নিয়ে আসা। এর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ব্যাচের র্যাগ উৎসবের জন্য ঢাকা থেকে মদ নিয়ে আসার জন্য আবারও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি উৎসবে মদ পরিবহনের জন্য নিরাপদ বাহনে পরিণত হয়েছে অ্যাম্বুলেন্সটি।”
এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান আলিফ।
ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায়।
তিনি বলেন, “জানা যায়, সেদিন গাড়িতে মদ থাকায় ড্রাইভার আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালিয়েছেন। মদের বোতল ভেঙে যাওয়ায় তাকে আধা ঘণ্টা পানিতে চুবিয়ে রাখা হয়েছে। এ জঘন্য কাজ আর কত দেখব?”
রক্তভেজা ওই মদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজন কীভাবে খেতে পারল প্রশ্ন রেখে কনোজ বলেন, “ওই দুই পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট দিতে হবে এবং দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
