সাজেকে আঞ্চলিক দুই সংগঠনের গোলাগুলি, শিশু গুলিবিদ্ধ
ঘটনার সময় আট বছরের কস্মিকা ত্রিপুরা বাড়িতে অবস্থান করছিল।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় দুই আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সাজেক ইউনিয়নের মাচালংয়ের মন্দিরছড়া এলাকায় এ এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন।
আহত কস্মিকা ত্রিপুরা (৮) ওই এলাকার ত্রিপুরা পাড়ার উলেন্দ্র ত্রিপুরা ও মনিকা ত্রিপুরার সন্তান। সে মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
সাজেক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জৌপৈই থাং ত্রিপুরা বলেন, গোলাগুলি সময় কস্মিকা ত্রিপুরা বাড়িতে অবস্থান করছিল। এ সময় একটি গুলি তার বাম হাতে লাগে। পরে তাকে মাচালং বাজারের একটি ফার্সেসিতে নিয়ে গিয়ে গুলিটি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “সকাল আনুমানিক ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত আঞ্চলিক দুই সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক শিশুর হাতে গুলি লেগেছে বলে শুনেছি। আমরা তার ছবিও পেয়েছি। তবে শিশুটিকে পাইনি।
“শিশুটিকে সম্ভবত খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেছে স্বজনরা। ঘটনাটি সাজেক থানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় এরকম গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।”
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মন্দিরছড়া ত্রিপুরা পাড়ায় আঞ্চলিক দল জেএসএস ও ইউপিডিএফের দুই পক্ষের মধ্যে আকস্মিক ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। এ সময় এক ত্রিপুরা শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। বর্বরোচিত ও অমানবিক ঘটনার প্রতি ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের নেতারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
জেএসএসের সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, “জেএসএসকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করার মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই। অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে জানতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমাকে ফোন করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
