২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

পশুর নদীতে ট্যাংকারের ধাক্কায় কয়লাবোঝাই কার্গোডুবি

সুন্দরবনে অবস্থানরত বিদেশি জাহাজ থেকে এক হাজার ২৫০ টন কয়লা নিয়ে কার্গোটি ঢাকার বাদামতলীতে যাচ্ছিল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 03:42 PM

Updated : 27 Oct 2026, 03:42 PM

মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় এক হাজার ২৫০ টন কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। এ সময় জাহাজটিতে থাকা নয়জন নাবিক সাঁতরে পাশের একটি কার্গোতে আশ্রয় নেওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার রাত ৯টার দিকে পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া-সংলগ্ন সুন্দরী কোঠা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী। তবে মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত কার্গোটি উদ্ধারে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন জাহাজটির মাস্টার সুজন মোল্লা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমভি ইয়াস জুপিটার’ থেকে কয়লা বোঝাই করে কার্গোটি ঢাকার বাদামতলীর উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ‘এমটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় জাহাজটির তলা ফেটে যায়।

ফুলবাড়ীর সুকানি মো. সাকিব কাজী বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস নামের ট্যাংকারটি ডাউনে নামছিল। এ সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের জাহাজে ধাক্কা দেয়। এতে জাহাজের ডেক ফেটে পানি ঢুকতে শুরু করে।

তিনি বলেন, “তখন আমরা জাহাজটি কিনারার দিকে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এর মধ্যেই এটি ডুবতে শুরু করে। আমরা সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে লাফ দিয়ে সাঁতরে অন্য একটি জাহাজে উঠি।”

তবে জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর মো. নয়ন শেখের দাবি, অ্যাঙ্করের সমস্যার কারণে তাদের ট্যাংকারটি সরে মূল চ্যানেলে চলে আসে।

“আমি সামনে এসে লাইট দিয়ে সংকেত দিতে দিতে ধাক্কা লেগে যায়। ধাক্কায় আমিও ছিটকে ফুলবাড়ীতে গিয়ে পড়ি”, বলেন তিনি।

কয়লাবোঝাই জাহাজটিতে মোট নয়জন ছিলেন। তাদের সঙ্গে নয়ন শেখসহ মোট ১০ জনকে রানীয়া-১৩ নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে যায়। তারা এখন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার কার্যালয়ে আছেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ডুবে যাওয়া জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে আছে, ফলে অন্য নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। তাই চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে এবং নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক।

জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।