০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: লক্ষ্মীপুরে খাদ্য সহায়তা পাননি জেলেরা

নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ সংরক্ষণসহ সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 06:33 PM

Updated : 07 Oct 2026, 06:36 PM

মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

অবরোধের সময় সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরের জেলেরা তা পাননি বলে দাবি করেছেন। এতে জেলেদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে সহায়তার সরকারি বরাদ্দের চাল ইউনিয়নে ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে; পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন।

জেলেদের দাবি, সরকার শুধু চাল দেয়, তাও সামান্য। এ ছাড়া শুধু চাল দিয়ে হয় না, অন্যান্য খরচও রয়েছে। মাছ না ধরলে উপার্জন বন্ধ, সেখান অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। এজন্য চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে জেলেরা।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে মধ্যরাত থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান চলবে। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রয়েছে জেল-জরিমানা ও উভয়দণ্ডের বিধান।

রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সব ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

এর মধ্যে জেলেরাও নদী থেকে ঘাটে ফিরছেন। নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী মাছ ধরার নৌকা নোঙর করছেন। অনেককে দেখা গেছে জাল ঠিক করে, নৌকা ধুয়েমুছে নদীর কিনারায় রেখে বাড়ি ফিরেছেন।

লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৫৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছে। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে প্রায় ১৫৩ টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে চাল সরবরাহ করা হবে। বরাদ্দ কম থাকায় বাকি ১১ হাজার ৮৫০ জেলে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না।

স্থানীয় ইসমাইল মাঝি, ইউছুফ হোসেন, মনির হোসেন ও জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন জেলে বলেন, তারা এখনো খাদ্য সহায়তা পাননি। এ ছাড়া জেলেদের তালিকা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অনেক জেলে ২০ বছরেও কোনো সহায়তা পাননি।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগেই বরাদ্দ করা চাল দেওয়ার দাবি জেলেদের। আবার কেউ কেউ বলছেন, অপ্রতুল সহায়তা নিয়ে অসন্তোষের কথা। এ ছাড়া পরিবার পরিজন ও ঋণের বোঝার কথাও অনেকের বলেছেন।

মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলেদের খাদ্য সহায়তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “শীঘ্রই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তা পেলে বাদ পড়াদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”