ময়মনসিংহ মেডিকেলে মশারির বাইরে ডেঙ্গু রোগী, সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা
“ওয়ার্ডে মশা নেই, তাই ইচ্ছা করেই মশারি ব্যবহার করছি না; অবশ্য চিকিৎসক-নার্সরাও কিছু বলছেন না।”
ময়মনসিংহে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ নিয়ে হাসপাতালটির মেডিসিন বিভাগের তিনটি ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ২১।
ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা গেল, মশারির সুবিধা থাকার পরেও এই ২১ রোগীর কেউই তা ব্যবহার করছেন না। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে।
রোগীদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ বছর বয়সি আব্দুল আউয়াল। তিনি ঢাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
তিনদিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার বিছানায় মশারির ব্যবস্থা থাকলেও তিনি ব্যবহার করছেন না। এতে ওয়ার্ডের অন্য রোগীরা ডেঙ্গু সংক্রমণের আতঙ্কে রয়েছেন।
আব্দুল আউয়াল বলেন, “ওয়ার্ডে মশা নেই তাই ইচ্ছা করেই মশারি ব্যবহার করছি না। অবশ্য চিকিৎসক-নার্সরাও কিছু বলছেন না। তবে কারো সমস্যা হলে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করব।”
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন জামালপুরে সরিষাবাড়ির বাসিন্দা উজ্জ্বল মিয়া। হাসপাতাল থেকে তাকে একটি মশারি দেওয়া হলেও ব্যবহার করছেন না।
উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “গত রাতে ভর্তি হয়েছি। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছি। কর্তৃপক্ষ একটি মশারি দিলেও টানানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। মশারি ছাড়া থাকতে নিজের কাছেও খারাপ লাগছে।”
বারান্দায় উজ্জ্বল মিয়ার পাশেই চিকিৎসা নিচ্ছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মশারির ভেতর থাকলেই ভালো হয়। আমরা আতঙ্কমুক্ত হয়ে সেবা নিতে পারি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিৎ।”
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা বলছেন, কে ডেঙ্গু রোগ আর কে অন্য রোগে আক্রান্ত তা বোঝার কোনো উপায় নেই। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, ডেঙ্গু রোগীকে মশারির মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সেটি করা হচ্ছে না।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড থাকলে ভালো হয় বলেও মনে করছেন তারা।
এ সব বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ইউনিটের ফোকাল পার্সন ডা. ফরহাদ হোসেন হীরা বলেন, “ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টানাতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ পার হলেই এই ওয়ার্ড চালু করা হবে।”
এই চিকিৎসক জানান, প্রতিদিনেই ৮-১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। মেডিসিন ওয়ার্ডে মোট ভর্তি রয়েছেন ২১ জন।
গত বছর একই সময়ে হাসপাতালে ১২ জন রোগী ভর্তি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত ১২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালুর কথা জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ইউসুফ আলী।
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে সিটি করপোরেশন তৎপর। তবে এ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।”
