Published : 18 Jun 2023, 10:45 PM
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৯০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে পুলিশ।
‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কোনো কেন্দ্র নেই বলে উল্লেখ করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১৩২টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং বাকি ৫৮টি কেন্দ্র সাধারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।“
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কেন্দ্রে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকা, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে সহিংসতার শঙ্কা, যোগাযোগ বিড়ম্বিত কেন্দ্র, কেন্দ্রে গোলযোগের আশঙ্কাসহ নানা দিক বিবেচনা করে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
বুধবার অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে আটজন, ৪২টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭৩ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরীতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৪২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৯০টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ৩৬৪টি।
ভোটকে কেন্দ্র করে পুরো নগরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রোববার রাতে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের (সিটি-নির্বাচন) কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারের সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০, ২১ ও ২২ জুন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকবে ১০ প্লাটুন বিজিবি। এ ছাড়া র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মোবাইল টিম এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সও মাঠে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচন কার্যালয় জানায়, সিটির ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৪২টি মোবাইল টিম নিয়োজিত থাকবে। প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডের জন্য থাকবে পুলিশের ১৪টি স্পেশাল স্ট্রাইকিং ফোর্স। ৪২টি ওয়ার্ডের জন্যে থাকবে র্যাবের ২২টি মোবাইল টিম।
একটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশ ও ১২ জন আনসারসহ মোট ১৭ জন দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে মোট ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়া নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে তা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের জন্য বিচার বিভাগের ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন।
আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মোমেন; ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জন কান্তি দাস; ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়া; ১০ ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল ওয়াহাব; ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন; ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম আসমা জাহান; ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন; ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল আলীম; ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম; ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার; ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসান; ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৌলভীবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম মিজবাহ উর রহমান; ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহা হেলাল উদ্দিন; ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে সুনামগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হালিম।
২০০২ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত চারবার নির্বাচন হয়েছে। ২০০৩ সালে প্রথম নির্বাচনে বিজয়ী বদর উদ্দিন কামরান, ২০০৮ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনেও কারাগার থেকে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৩ সাল থেকে মেয়র পদে আছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। তবে এবার তিনি দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না।