বিলমাড়িয়া: ইমো হ্যাকারদের ‘স্বর্গরাজ্য’
“এটা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়ে গেছে। এলাকার নব্বইভাগ মানুষের পেশা এটা। মামলা মোকাবিলার জন্য এদের উকিল-টুকিল ধরাই থাকে সবসময়।”
নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মার পাড় ঘেঁষা ইউনিয়ন বিলমাড়িয়া। পদ্মার ওপারেই ভারত। সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে এক সময় চোরা কারবার আর অস্ত্রের ঝনঝনানি থাকলেও এলাকার বেশিরভাগ মানুষের পেশাই কৃষি। পদ্মার চরে শস্য আবাদ আর গবাদি পশুপালনই তাদের প্রধান কাজ।
কিন্তু এখন অবস্থা পাল্টেছে। এক দশক আগেও দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকায় পাকা বাড়ি ছিল একেবারে হাতেগোনা। মানুষ মাটি বা টিনের ঘরেই বসবাস করতেন।
দারিদ্র্যের ছাপ এখনও রয়ে গেছে। কিন্তু তার মধ্যেও চোখ মেললেই এদিক-সেদিক চোখে পড়ে পাকা বাড়ি, চোখ ধাঁধানো ভবন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব পাকা বা আলিশান বাড়ির যুবকরা আগে মানুষের বাড়ি, ক্ষেতখামের কাজ করতেন। এখন তারা নিজেরাই অনেক মানুষকে ‘কাজ’ দেন আর নিজেরা ঘোরেন দামি গাড়িতে।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মহারাজপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলছিলেন, “আগে এ এলাকা চোরাচালানের জন্য কুখ্যাত ছিল। এখন তরুণরা ইমো হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নাটোরের মধ্যে বিলমাড়িয়া হচ্ছে এদের স্বর্গরাজ্য। ঘরে ঘরে হ্যাকার পাবেন।”
কীভাবে হয় ইমো হ্যাকিং
মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অডিও বা ভিডিও ফোন কল বা বার্তা লেনদেনের একটি অ্যাপ ইমো। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এই অ্যাপ দারুণ জনপ্রিয়। আর তারাই হ্যাকারদের প্রধান ‘টার্গেট’।
এই অ্যাপ যে কোনো ডিভাইসে সহজে ইন্সটল করা যায়, স্বল্পগতির ইন্টারনেটেও ব্যবহার করা যায়। সে কারণে গ্রামের সহজ-সরল বা প্রযুক্তির সঙ্গে কম পরিচিত মানুষদের মধ্যে ইমো বেশি জনপ্রিয়।
যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে যান, তাদের এবং তাদের স্বজনদের কাছে ইমো একটি জনপ্রিয় যোগাযোগের অ্যাপ। কারণ গ্রামে বা প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেটের গতি কম থাকলেও ইমো ব্যবহার করে সহজেই ভিডিও কল করা যায়।
ইমোর একটি বড় দুর্বলতা হল, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে অনেকগুলো ডিভাইসে এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। ফলে হ্যাকার কৌশলে কারো কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে নিজেদের কোনো ডিভাইসে ওই ব্যক্তির ইমো অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলতে পারে।
ইমোতে নিবন্ধন করতে হয় ফোন নম্বর দিয়ে। হ্যাকার যদি কোনো ব্যক্তির ফোন নম্বর জেনে নিয়ে নিজের ডিভাইসে তার ওই অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার চেষ্টা করে, তাহলে মূল অ্যাকাউন্টধারীর কাছে ওটিপি চলে যায়। প্রতারক চক্র তখন নানাভাবে ফুসলিয়ে সেই কোডটি নিয়ে নেয় এবং এভাবে তারা ইমো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পায়।
নতুন ডিভাইসে ইমো চালু করার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো সব তথ্য, চ্যাট হিস্ট্রিও চলে আসে। ফলে সেখানে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য, ছবি বা ভিডিও থাকলে তা হ্যাকারদের কাছে চলে যায়।
সেসব ব্যবহার করে পরে ওই ব্যক্তি বা তার স্বজনদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়, হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। প্রতারণার শিকার ব্যক্তি লোকলজ্জার ভয়ে টাকা দিয়ে নিস্তার পাওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রতারণার শিকার কুয়েত, মালয়েশিয়া ও বাহারাইন প্রবাসী কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, অনেক সময় হ্যাকাররা নারীর কণ্ঠে কথা বলেও প্রতারণার ফাঁদ পাতে।
আবার দেশে ইমো হ্যাকিংয়ের অনেক ঘটনা ঘটে মোবাইল মেরামতের দোকান থেকে। সেখানে থেকে ইমো একাউন্টের আইডি বা পাসওয়ার্ড চলে যায় হ্যাকারদের কাছে।
‘ঘরে ঘরে প্রতারক’
বিলমাড়িয়া এলাকার হ্যাকাররা খুবই সংঘবদ্ধ। বাইরে থেকে এলাকায় কে বা কারা আসছে বা যাচ্ছে সবই তাদের নজরে থাকে। পুলিশি হয়রানি ও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তারা ‘ঘাটে ঘাটে লোক লাগিয়ে রাখে’ বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও এদের বিরুদ্ধে মুখ খোলাও বিপদ। টাকার জোরে এরা মানুষের উপর হামলা চালায়, হুমকি দেয়। এটা একটা বিরাট চক্র। প্রকাশ্যে-গোপনে অনেক মানুষ এর সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত। ফলে ভয়ে কেউ কথা বলতে চান না।
থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিলমাড়িয়ার অন্তত ৫০ জন হ্যাকারের নাম পাওয়া যায়।
মাহারাজপুর এলাকায় গিয়ে একজন গ্রাম পুলিশের কাছে তালিকাটি দেখালে তিনি সবাইকেই চিনতে পারেন। তাদের সহায়তা নিয়েই হ্যাকারদের বাড়িগুলো দেখার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়।
তবে, এর মধ্যেই একজন গ্রাম পুলিশের সদস্য বলে বসেন, “আপনাদের আসার খবর হয়ত আগেই পেয়ে গেছে হ্যাকাররা। এখন তো কাউকে আর বাড়ি পাবেন না। পালিয়ে যাবে।”
মহারাজপুর গ্রামটি খুব বড় নয়। বেশিরভাগ টিনের বাড়ি। তার মধ্যে কিছু কিছু পাকা বাড়ি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়বে। প্রথমেই যাওয়া হয় সিরাজুল ইসলাম ওরফে পাকার বাড়িতে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে কয়জনের হাত ধরে প্রথম বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে ইমো হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার শুরু হয় পাকা তাদের অন্যতম। তরুণদের অনেকেই তার কাছ থেকে হ্যাকিং ও প্রতারণা শিখেছেন।
বাড়িতে গিয়ে যথারীতি পাকাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের স্বজনরা ছিলেন। তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোনো কথা না বলেই সরে যান।
সিরাজুল ইসলাম নামে আরেকজন আছেন একই গ্রামে। তিনি প্রয়াত জব্বার পাঠানের ছেলে। তিনিও বাড়ি ছিলেন না।
বাড়িতে ক্যামেরা নিয়ে ঢুকতেই ক্ষেপে যান তার পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে সিরাজুলের বড় ভাই, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হুমকিও দেন।
সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, “আমার স্বামী এখন ভালো হয়ে গেছে। আপনারা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। মামলা থাকলে আগের আছে, এখন কিছু নাই। বের হন।”
সিরাজুল ইসলামের পাশের বাড়িটি পুলিশের তালিকাভুক্ত আরেক ‘ইমো প্রতারক’ আবুল হোসেনের ছেলে মাহাবুলের। বাড়ির অধিকাংশ ঘরে তালা। একটি ঘর থেকে সিরাজুলের মা বেরিয়ে এসে চিৎকার করে জানতে চাইলেন, কেন তার বাড়িতে প্রবেশ করা হল।
কয়েকটি বাড়ি পরেই ‘ইমো প্রতারণা’র মামলার আসামি আরিফের বাড়ি। অনেকবার ডাকলেও বাড়ি থেকে তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরে বেরিয়ে আসেন আরিফের মা আকলিমা খাতুন। তিনি ছেলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পাশের সাহাবুলের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনিও পুলিশের তালিকভুক্ত হ্যাকার। তবে স্বামীকে নির্দোষ দাবি করেন রত্না খাতুন।
এভাবে গ্রাম ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটি আলিশান বাড়ির কাছে চোখ আটকে যায়। সঙ্গে গ্রাম পুলিশের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানালেন, এটি পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘ইমো প্রতারক’ আসিফের বাড়ি।
বাড়ির সামনে যেতেই ক্ষেপে যান তার বাবা সাজদার রহমান। ছেলে আগে প্রতারণায় জড়িত থাকলেও এখন ভালো হয়ে গেছে এমন দাবি করে বাড়িতে প্রবেশের পথ আটকে রাখেন তিনি।
সাজদার রহমান রেগে গিয়ে বলছিলেন, “আমার ছেলেকে আর গ্রামে রাখবই না। ওকে বাইরে পাঠিয়ে দেব। আমি ওকে আগে থেকেই নিষেধ করেছি, প্রশাসনও নিষেধ করেছে যেন ভালো হয়া যায়।”
গ্রামেই দেখা হয় শিক্ষক আব্দুল রায়হান নান্নুর সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, “আপনারা এলাকার যাদের কথা বলছেন তাদের চলাফেরা ভালো না। আমাদের এখন তাদের জন্য লজ্জা হয়। সমাজের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমি অবশ্যই চাই এগুলো প্রতিরোধ হোক।”
‘মুখওটা ধুচ্ছে ডাবের পানিতে’
মহারাজপুর, মোহরকয়া, পাসিপাড়ার লোকজন হঠাৎ করেই খেয়াল করলেন, এলাকার কিছু বেকার ছেলে হঠাৎ করেই বেশ বাড়বাড়ন্ত। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দোকানে বসে দামি দামি খাবার খায় ও খাওয়ায়। টাকা যেন তাদের কাছে কিছু না।
মহারাজপুর এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম বললেন, “আমরা যে মাছ দুই-তিনশ টাকা কেজি কিনি, ওই মাছ ওরা আরও বেশি দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যায়। বাজারে একটা গরু জবাই করলে ওরাই বেশি দাম দিয়ে নিয়ে নেয়, সাধারণ মানুষ আর পায় না। বেনসন সিগারেট ছাড়া খায় না, ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধোয়–এসব কথা এলাকার সবাই জানে।
“নেশার উৎপাতও বেশি, বেশিরভাগই নেশাগ্রস্ত। এটা এখন ব্যবসায় পরিণত হয়ে গেছে। এলাকার নব্বইভাগ মানুষের পেশা এটা। মামলা মোকাবিলার জন্য এদের উকিল-টুকিল ধরাই থাকে সবসময়।”
মোহরকয়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, “দুদিন আগেও তারা কামলা দিছে, এখন চার-পাঁচ লাখ টাকা দামের গাড়িতে ঘুরে বেড়ায়। একবারে বাজার করে ১০ হাজার টাকার। মুখওটা ধুচ্ছে ডাবের পানিতে, সেলুনে গিয়ে দেড় দুই হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছে। আমরা তো ৫০ টাকাই দিতে পারি না।
“এটা নিয়ে তো পরিবারেও সমস্যা হয়ে যায়। বউ-ঝিরা কয়, ওরা এত কিছু করে তোমরা পারো না ক্যা?”
নাগশষা এলাকার বাসিন্দা ওসমাণ গণি বলেন, “তারা কিছুই করে না। বেকার শুধুই বেকার। শুধু ফোন নিয়ে ঘুরে আর হ্যাক করে। অনেক টাকা ইনকাম করে। তাদের লাইফস্টাইলই অন্যরকম। হাজার হাজার টাকা খরচ করে প্রতিদিন নেশা করে। ইনকাম করে বলিই তো খরচ করে। তাদের তো কোনো সম্পদ নাই।
“তবে নাম নিতে গেলে আমার জীবনের নিরাপত্তা নাই। তারা উচ্ছৃঙ্খল, আমি বললে আমাক পরিবারেক মারি দিবি।”
একই ভয়ের কথা বলেন পাসিপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলাম।
“কথা বলতে গেলে তো আমাদের জাগা থাকবি না, আমারে আসি ধরবি। পুলিশ ধরি লি যায়ে ছ্যাড়ি দেয়। কত লাগবি পুঞ্চাশ হাজার, এক লাক, দুই লাক। সাতে সাতে দিয়্যা দিচ্চে।”
বিলমাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা শিমুল আহমেদ বলেন, “প্রশাসন এদের ধরে, কিন্তু দুদিনেই বের হয়ে আসে। আসেই আবার তাদের কাজকর্ম পুরোদম ওভাবেই চলতে থাকে।”
‘পুলিশই নজরদারিতে’
শুধু বিলমাড়িয়াই নয়। ‘প্রতারণা ব্যবসা’ ছড়িয়ে পড়েছে লালপুরসহ আশপাশের এলাকাতেও। আড়বাবের অমৃতপাড়া এলাকায় লালপুর-বাঘা মহাসড়কের পাশে গলিতে আলিশান বাড়ির কাজ চলছে ‘ইমো প্রতারক’ শাহীনের বাড়িতে।
সামনে সেমি পাকা বাড়ি রেখেই পেছনে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল অট্টালিকা। বাড়ি কে করছেন- জিজ্ঞেস করতেই চিৎকার করে উঠেন শাহীনের বাবা কুদ্দুস আলী। এগিয়ে আসেন শাহীনের বোনও। যদিও পরে বাবা ও মেয়ে মিলে ‘ম্যানেজ’ চেষ্টা করেন।
এই সড়ক ধরেই মোহরকয়া গ্রাম। সেই গ্রামের বাসিন্দা ওহিদুল মোল্লা। পুলিশ বলছে, ওহিদুল সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছেন নিজের নিরাপত্তার জন্য। বিশেষ করে পুলিশের গতিবিধি নজরে রাখতে। পুলিশ এলাকায় এলে আগেই যাতে পালিয়ে যেতে পারেন।
বাড়িতে ওহিদুলের একটি ঘর আছে। সেখানে অসংখ্য কবুতর। বাইরে থেকে দেখলে কারো বোঝার উপায় নেই সেখানে রয়েছে এসি, সিসিটিভি মনিটর আর আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা। সেই ঘরেই বিছানা পেতে থাকেন ওহিদুল। সম্প্রতি ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওহিদুল হ্যাকিংয়ের কাজের জন্য সাতটি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম। সেগুলোর নম্বর একটি কাগজে ছক করে লিখে রেখেছিলেন ওহিদুল। সিমগুলোর কোনটি নগদ, কোনটি বিকাশ নিবন্ধিত সেটি সাংকেতিকভাবে লেখা ছিল।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল মোল্লাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় একসঙ্গে।
ইমো হ্যাকিংয়ের অভিযোগে লালপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় মাসে ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বিপরীতে মামলা হয়েছে ২৪টি।
পুলিশের ভাষ্য, মোবাইলের বিভিন্ন সিম এক থেকে দেড় হাজার টাকায় সংগ্রহ করেন হ্যাকাররা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ফাঁকি দিতে সেটি ১০-১৫ দিনের বেশি ব্যবহার করেন না তারা।
আগে প্রতারণার মাধ্যমে উপার্জিত টাকা স্থানীয় মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টদের কাছ থেকেই তুলতেন হ্যাকাররা। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় হ্যাকাররা এখন আর স্থানীয়ভাবে টাকা উত্তোলন করেন না। নিজের লোক মারফত অন্য কোনো জেলা থেকে উত্তোলন করেন।
সচেতন হতে বলছে পুলিশ
বড়াইগ্রাম-লালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, “ভুক্তভোগীদের কাছে থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ খুব বেশি আসে না। অধিকাংশই বাইরের জেলার হয়। সাধারণ মানুষ যতদিন সচেতন না হবে এটা প্রতিরোধ করা মুশকিল।
প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত করা হয় জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারণার পর ইমো প্রতারকদের কাছ থেকে এসব টাকা উদ্ধার প্রায় অসম্ভবই হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতারিত হওয়ার আগেই সচেতন হতে হবে।
