২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

নওগাঁয় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নির্বাচন পরবর্তী নৈরাজ্য বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন খালেকুজ্জামান।

নওগাঁয় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

নওগাঁর একটি রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-১ আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান।

নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Jan 2024, 04:44 PM

Updated : 12 Jan 2024, 07:56 PM

নওগাঁ-১ আসনে বিজয়ী নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার’ অভিযোগ করেছেন ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নওগাঁর একটি রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের মারপিট, পুকুর থেকে মাছ তুলে ভুরিভোজ, বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা করছে বলে অভিযোগ করেন খালেকুজ্জামান।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাধন চন্দ্র মজুমদার। ১ লাখ ৮৬ হাজার ভোট বিজয়ী হয়ে তিনি ফের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. খালেকুজ্জামান পেয়েছেন ৭৬ হাজার ১৯৩ ভোট। তিনি চন্দননগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটির পদে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খালেকুজ্জামান অভিযোগ করেন, “শুধু ট্রাক প্রতীকের নির্বাচন করার কারণে নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর, চন্দননগর, ভাবিচা ও রসুলপুরে ইউনিয়নে কমপক্ষে ৮০টি গভীর নলকূপে তালা মেরে দিয়েছে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা। এর আগে এসব গভীর নলকূপ বৈধভাবে পরিচালনা করতেন তারা সবাই আমার কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ”

তিনি জানান, চন্দননগর ইউনিয়নের করমজাই ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের দুটি পুকুর সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

“ভোটের পরদিন ওই পুকুর দুটিতে নৌকার সমর্থকেরা কীটনাশক প্রয়োগ করে। পরে মাছ ভেসে উঠলে বেড়জালে মাছ ধরে প্রকাশ্যে ভুরিভোজ করে। দুটি পুকুর থেকে প্রায় ৬০ মণ মাছ ধরা হয়েছে। এতে মৎস্যজীবীদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেকুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর থেকেই নৌকার প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আমার কর্মী-সমর্থকদের মারধর, আমার ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।

“এসব অন্যায়-অত্যাচারের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলে ত্বরিত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

“কিন্তু নির্বাচনের পরে নৌকার প্রার্থীরা সমর্থকেরা ভোটের পরদিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিরন্তর আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতির মধ্যে রেখেছে। ট্রাকে ভোট দেওয়ার কারণে অনেক নেতাকর্মী বাড়ি ছাড়া।”

এ অবস্থায় এলাকায় একটা আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে এই প্রার্থী বলেন, “আমি নিজে এবং ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করার পরেও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে নির্বাচন পরবর্তী নৈরাজ্য বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন খালেকুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যাঁরা ট্রাক ও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমার সমর্থকদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করা মানে আওয়ামী লীগের ওপর অন্যায়-অত্যাচার।”

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক হামলা, মারধর, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করার তালিকা দেন খালেকুজ্জামান।

তার এসব অভিযোগের বিষয়ে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক সাপাহার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী যেসব অভিযোগ করেছেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়। যেমন সাপাহারে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু আমার জানা মতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনাস্থলে বাকবিতণ্ডা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমরা একই দলের লোক সহ-অবস্থানে থেকে কাজ করব।”

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খালেকুজ্জামান অভিযোগ করেন, “শুধু ট্রাক প্রতীকের নির্বাচন করার কারণে নিয়ামতপুর উপজেলার হাজিনগর, চন্দননগর, ভাবিচা ও রসুলপুরে ইউনিয়নে কমপক্ষে ৮০টি গভীর নলকূপে তালা মেরে দিয়েছে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা। এর আগে এসব গভীর নলকূপ বৈধভাবে পরিচালনা করতেন তারা সবাই আমার কর্মী-সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ”

তিনি জানান, চন্দননগর ইউনিয়নের করমজাই ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের দুটি পুকুর সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ করছিলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।

“ভোটের পরদিন ওই পুকুর দুটিতে নৌকার সমর্থকেরা কীটনাশক প্রয়োগ করে। পরে মাছ ভেসে উঠলে বেড়জালে মাছ ধরে প্রকাশ্যে ভুরিভোজ করে। দুটি পুকুর থেকে প্রায় ৬০ মণ মাছ ধরা হয়েছে। এতে মৎস্যজীবীদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেকুজ্জামান বলেন, “নির্বাচনের প্রচার শুরুর পর থেকেই নৌকার প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আমার কর্মী-সমর্থকদের মারধর, আমার ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়।

“এসব অন্যায়-অত্যাচারের কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হলে ত্বরিত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল।

“কিন্তু নির্বাচনের পরে নৌকার প্রার্থীরা সমর্থকেরা ভোটের পরদিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নিরন্তর আমার নেতাকর্মীদের ভয়ভীতির মধ্যে রেখেছে। ট্রাকে ভোট দেওয়ার কারণে অনেক নেতাকর্মী বাড়ি ছাড়া।”

এ অবস্থায় এলাকায় একটা আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে দাবি করে এই প্রার্থী বলেন, “আমি নিজে এবং ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করার পরেও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে নির্বাচন পরবর্তী নৈরাজ্য বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন খালেকুজ্জামান।

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যাঁরা ট্রাক ও নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক। আমার সমর্থকদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করা মানে আওয়ামী লীগের ওপর অন্যায়-অত্যাচার।”

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক হামলা, মারধর, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করার তালিকা দেন খালেকুজ্জামান।

তার এসব অভিযোগের বিষয়ে নৌকার প্রার্থীর সমর্থক সাপাহার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী যেসব অভিযোগ করেছেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়। যেমন সাপাহারে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু আমার জানা মতে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনাস্থলে বাকবিতণ্ডা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আমরা একই দলের লোক সহ-অবস্থানে থেকে কাজ করব।”