টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্বশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী সমাধি বেদীর পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকও গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 August 2022, 06:59 AM
Updated : 15 August 2022, 06:59 AM

জাতীয় শোক দিবসে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১২টায় তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধি বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

স্বশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়। বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী সমাধি বেদীর পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর ১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দলীয় সভাপতি হিসেবেও তিনি পরে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেন করেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ,আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করেন। সেখান থেকেই তিনি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

প্রতিবারের মতো প্রধানমন্ত্রী দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ছাড়ার পর সমাধিপ্রাঙ্গণ সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে। সর্বস্তরের মানুষ এরপর বঙ্গবন্ধুর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।

১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেই রাতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ছাড়াও তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ নাসেরকে হত্যা করে।

নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। ধানমণ্ডির বাড়িতে পুলিশের বিশেষ শাখার সাব ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলকেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় সে সময় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুকে জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় দাফন করা হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। জাতীয় শোক দিবসের এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে রওনা হয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচি শেষে বিকালে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক