উজানে বর্ষণের আভাস, সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটতে মাইকিং
হাওর এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে মাইকিং করা হচ্ছে; গ্রামের মসজিদের মাইকেও প্রচার চলছে।
ভারতের মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টির আভাসে ফসলহানির ঝুঁকি এড়াতে সুনামগঞ্জের হাওরের পাকা ধান কাটার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুর থেকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় এই আহ্বান জানিয়ে মাইকিং চলছে। একই সঙ্গে কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছে।
হাওর এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে মাইকিং চলছে। একই সঙ্গে গ্রামের মসজিদের মাইকেও প্রচার করা হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব বলেন, আগামীকাল থেকে হাল্কা, মাঝারি বৃষ্টিপাত, ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে ২৩ এপ্রিল থেকে টানা ভারি বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ শামসুদ্দোহা বলেন, “আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে ২৩ এপ্রিল থেকে মেঘালয়ে টানা ভারি বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এতে হাওরের পাকা ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি থাকলে কৃষক ধান কাটতে পারে না। এ কারণেই আমরা পাকা ধান দ্রুত কাটার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মকসুদ চৌধুরী বলেন, “আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে মেঘালয়ে ভারি বর্ষণ হতে পারে। তাই হাওরের পাকা বোরো ধান যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য আমরা প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কৃষকদের ধান কাটায় উৎসাহ দিতে মাইকিং করাচ্ছি।”
তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধান কাটার জন্য শ্রমিক সংকট নেই। প্রায় ১ হাজার হার্ভেস্টর মাঠে ধান কর্তনের কাজ করছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯৪২ হেক্টর জমির বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। শাল্লা, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। বাকি অন্যান্য উপজেলার হাওরের ৩০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। হাওর ও নন হাওর মিলিয়ে এ পর্যন্ত গড়ে ৩৩ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় সবচেয়ে কম ধান কাটা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই উপজেলায় হাওরের ধান কাটার গড় ৩০ ভাগের নিচে। এখন প্রতিদিন গড়ে হাওরে ৬ ভাগ ধান কাটা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, এখন গড়ে প্রতিদিন ৬ শতাংশ ধান কাটা হচ্ছে। হাওরের সব ধান কাটার উপযুক্ত। ধান কাটা যন্ত্রের সঙ্গে শ্রমিকেরও কোনো সংকট নেই।
“দ্রুত ধান কাটতে আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। এই মুহূর্তে হাওরের ফসল ক্ষতির মুখে পড়লে পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে।”
