মাদারীপুরে ফরিদা হত্যায় ১৪ বছর পর প্রেমিকের ফাঁসির আদেশ

২০০৮ সালের ৬ মে শহিদুল মোল্লার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন ফরিদা; পরদিন তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মাদারীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Nov 2022, 11:39 AM
Updated : 15 Nov 2022, 11:39 AM

মাদারীপুরের সদর উপজেলায় ফরিদা বেগম হত্যায় তার প্রেমিকের ফাাঁসির আদেশ হয়েছে।  

ঘটনার ১৪ বছর পরে মঙ্গলবার মাদারীপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস এই রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান সিং। 

মামলার নথির বরাতে তিনি জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদী গ্রামের মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে শহিদুল মোল্লার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো একই উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রামের আব্দুল করীম ক্কারীর মেয়ে ফরিদা বেগমের। 

২০০৮ সালের ৬ মে সকালে ফরিদা শহিদুলের সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুয়াসার এলাকার কাদের কবিরাজের পেঁপে বাগান থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে কালকিনি থানা পুলিশ। 

এ ঘটনায় নিহতের ভাই হান্নান ক্কারী সেদিন বিকালে শহিদুল মোল্লাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই সময়ের কালকিনি থানার এসআই মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ ২০০৯ সালের ২২ জুন আসামি শহিদুল মোল্লাকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। 

এরপর দীর্ঘ ১৪ বছরে আদালতে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শহিদুল মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিচারক। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশও দিয়েছে আদালত। 

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই হান্নান ক্কারী বলেন, “আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালতের কাছে একটাই দাবি এ রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।” 

এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে পিপি সিদ্দিকুর রহমান সিং বলেন, আসামি শহিদুল মোল্লা প্রতারণার মাধ্যমে ভিকটিমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিয়ে করেননি। পরে ভিকটিমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছি শহিদুল মোল্লা তার প্রেমিকা ফরিদাকে হত্যা করেছেন।” 

এ বিষয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক