ফরিদপুরে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
২০২৩ সালের ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন সকালের মধ্যে কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ফরিদপুরে হাসিনা বেগম নামের এক নারীকে হত্যার দায়ে তার স্বামী ফরহাদ মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি ফরহাদ মোল্লা (৩৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশের পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, নিহত হাসিনা বেগমকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই চাপ দিতেন তার স্বামী ফরহাদ মোল্লা। একপর্যায়ে তিনি হাসিনার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে ওই টাকা দিতে না পারায় ২০২৩ সালের ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন সকালের মধ্যে কোনো এক সময় হাসিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ফরহাদ।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে হাসিনার বাবা মোসলেম খলিফা জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের ভেতর মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে ওই দিনই তিনি বাদী হয়ে ফরহাদ মোল্লাকে প্রধান আসামি করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নগরকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন।
পিপি গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির দীর্ঘ শুনানি হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত ফরহাদ মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন কমে আসবে বলে আমরা আশা করি।”
