১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

৫ দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে রাবির গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট

১৩ জুলাই থেকে বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি বুথের মাধ্যমে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে।

৫ দফা দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে রাবির গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে সংবাদ সম্মেলন করে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jul 2025, 03:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। 

একইসঙ্গে এসব দাবিতে সাত দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচিরও ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

ছাত্র জোটের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নতুন হল নির্মাণ করে শতভাগ আবাসিকতা নিশ্চিত করা, গণরুম চালু রাখা এবং সিট বরাদ্দে অধ্যাদেশ অনুসরণ করা। পাশাপাশি প্রভোস্ট স্বাক্ষরের জন্য ধার্য ৫০ টাকার ফি বাতিলের দাবি জানানো হয়।

জোটের নেতারা বলেন, ক্যাটারিং ব্যবস্থা বাতিল করে ভর্তুকি দিয়ে হল ডাইনিংয়ে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করতে হবে।

বধ্যভূমি থেকে জিয়া ও হাবিবুর রহমান হল এবং স্টেশন বাজার থেকে বিনোদপুর পর্যন্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালু, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধ সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফার্মেসি স্থাপনের দাবিও জানানো হয়।

এ ছাড়া, রাকসু নির্বাচন আয়োজন, সন্ত্রাস ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে স্বাধীন সেল গঠন এবং সাতটি আবাসিক হলে কোরআন পোড়ানোর ঘটনা, অধ্যাপক ইফতেখার আলম মাসুদের বাসায় হাতবোমার বিস্ফোরণ এবং গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে হামলার মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে মেসে থেকে অতিরিক্ত খরচে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হচ্ছে। অধিকাংশ হলে প্রশাসনিকভাবে চালু ডাইনিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। পূর্ববর্তী প্রশাসনের নানা ব্যর্থতার পর শিক্ষার্থীরা নতুন প্রশাসনের কাছে আশাবাদী ছিল। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও কোনো আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।

রাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল তারা ক্যাম্পাসকে শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য আরেকটু উপযোগী এবং দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমরা বারবার হতাশ হয়েছি। ছয় মাসের মধ্যে রাকসু নির্বাচন দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি। তবে আমরা এখনও আশা হারাতে চাই না। প্রশাসন দ্রুতই বিষয়গুলো সমাধান করবে বলেই প্রত্যাশা করছি।”

গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৩ জুলাই থেকে পরবর্তী সাত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একটি বুথের মাধ্যমে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল, ছাত্র ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ, ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকার, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক তারেক আশরাফ এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর পক্ষে আল আশরাফ রাফি।