Published : 04 Jul 2024, 01:54 AM
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গার্ডের অনুপস্থিতির কারণে নোয়াখালী এক্সপ্রেস কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশন ছেড়েছে দুই ঘণ্টা দেরিতে। এতে চরমে দুর্ভোগে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা।
বুধবার রাতের এ ঘটনায় ওই গার্ডকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার মাহবুবুর রহমান।
তিনি জানান, নোয়াখালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাকসাম থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বুধবার সন্ধ্যায়ও ট্রেনটি নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনে অপেক্ষা করছিল।
তবে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ট্রেনটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গার্ড কিশোর কুমারকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্নভাবে চেষ্টার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
পরে রাত ৮টার দিকে অপর গার্ড আল আমিনকে দিয়ে ট্রেনটি লাকসাম থেকে ছেড়ে যায় বলে জানান স্টেশন মাস্টার।
এছাড়া নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিলম্বের কারণে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দেরিতে ছাড়তে বাধ্য হয়।
উপকূল ট্রেনটি লাকসাম জংশন স্টেশনে দুই মিনিট যাত্রাবিরতির কথা থাকলেও প্রায় আধঘণ্টা বিরতির পর ট্রেনটি নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এতে উভয় ট্রেনের প্রায় সাড়ে তিনশ যাত্রী ভোগান্তি পোহায়।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের যাত্রী আবদুল্লাহ আল মামুন, আলী আশরাফ, অনিকসহ কয়েকজন বলেন, রেলের দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা চাকরি করেন বাড়িতে বসে থেকে। এইদিকে যাত্রী গোল্লায় যাক তাদের কী? ট্রেনে যাতায়াতকারী মানুষগুলোর কি সময়ের মূল্য নেই?
স্টেশন মাস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, “ট্রেনের গার্ড কিশোর দাস কোনও যোগাযোগ ছাড়া অনুপস্থিত থাকেন। কী কারণে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন তা আমাদের জানা নেই।
“আমি বিষয়টি আমাদের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবগত করলে, রেলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান দায়িত্বে অবহেলার কারণে গার্ড কিশোর দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।”
নাম প্রকাশ না শর্তে লাকসাম রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ট্রেন পরিচালনায় পরবর্তী ইমারজেন্সি ডিউটিতে ছিলেন গার্ড শামসুল আলম। তিনিও দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন। কারণ ওই সময় তিনি তার মনোহরগঞ্জের নাথেরপেটুয়া গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরে আল-আমিন ট্রেনটির দায়িত্ব নেন বলে জানা গেছে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া গার্ড কিশোর দাস সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ফেনী থেকে সুবর্ণ এক্সপ্রেসে আসতে ট্রেনটি প্রায় সোয়া একঘণ্টা দেরি করে। এ জন্য আমারও দেরি হয়। আমি বিষয়টি সিনিয়র গার্ড ওমর ফারুককে জানিয়েছি।”