২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চুরির ভাগের টাকার জন্য কর্মচারী খুন, আদালতে ২ জনের স্বীকারোক্তি

তিন দিন আগে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সওজের পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে হোটেল কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

চুরির ভাগের টাকার জন্য কর্মচারী খুন, আদালতে ২ জনের স্বীকারোক্তি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক হোটেল কর্মচারী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 May 2025, 02:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:47 PM

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক হোটেল কর্মচারী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। চুরির ভাগের টাকার জন্য তাকে খুন করেছেন বলে আদালতকে জানান তারা।

রোববার বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. আলমগীর হোসেন ওই দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানান সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি একরামুল হোসাইন।

এর আগে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়ার আলম শেখের ছেলে মো. ফিরোজ (২১) এবং সলঙ্গা থানার তারুটিয়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জুলেখা খাতুন (২১)।

নিহত হোটেল কর্মচারী আরাফাত খাঁন (৩৫) ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিপুর পাকিস্তানপাড়ার মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। তিনি সলঙ্গা থানার রাধানগর গ্রামের শাপলা খাতুনকে বিয়ে করে সেখানেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।

ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, ২৩ মে সকালে উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বরের পাশে সওজ অফিসের পরিত্যক্ত ভবনের পেছন থেকে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। 

এ ঘটনায় আরাফাতের স্ত্রী শাপলা খাতুন অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামিকে মামলা করেন। এরপর মামলার তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। 

তিনি বলেন, তদন্ত চলাকালে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে শনিবার রাতে হাটিকুমরুল এলাকা থেকে প্রথমে ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জুলেখা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পরদিন গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানান ওসি একরামুল হোসাইন। 

তিনি বলেন, “জবানবন্দিতে ফিরোজ বলেন, আগের একটি চুরির ভাগের পাঁচ হাজার টাকা আরাফাতের কাছে পাওনা ছিল তার। ২২ মে রাতে আরাফাত হাটিকুমরুল গোলচত্বরের পাশে সওজ কার্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের পাইপ চুরি করতে গেলে সেখানে আরও দুইজন সহযোগীসহ ফিরোজ উপস্থিত হন। সেখানে ‘যৌনকর্মী’ জুলেখাকে দুই হাজার টাকার চুক্তিতে নিয়ে যাওয়া হয়। 

“এ সময় সেখানে আরাফাতের কাছে পাওনা টাকা চান ফিরোজ। এতে দুইজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে আরাফাত প্রথমে ফিরোজকে থাপ্পড় মারেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ ও জুলেখা ইট দিয়ে আরাফাতের মাথা ও মুখ থেতলে হত্যা করেন। ঘটনার সময় অন্য দুজন পাশে পাহারা দেন।”

সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান ওসি একরামুল হোসাইন।