Published : 19 Dec 2024, 12:30 AM
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে সাংবাদিক এ টি এম তুরাব হত্যা মামলার আসামি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাদেক কাউসার দস্তগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই সিলেটের একটি দল শেরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান।
সাদেক কাউসার দস্তগীর বর্তমানে শেরপুর জেলা পুলিশে কর্মরত আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের (ক্রাইম উত্তর) দায়িত্বে ছিলেন।
রাত ৯টার দিকে খালেদ-উজ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাওয়ার পর শেরপুর থেকে দস্তগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন রাস্তায় আছে।
সিলেটে পৌঁছালে বৃহস্পতিবার আসামিকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে মিছিলের পেছনে ধাওয়া করে গুলি ছোড়ে পুলিশ।
এতে গুলিবিদ্ধ হন নয়া দিগন্তের সিলেট প্রতিনিধি ও স্থানীয় একটি দৈনিকের নিজস্ব প্রতিবেদক এ টি এম তুরাব। প্রথমে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে নগরীর সোবহানীঘাটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় ১৯ অগাস্ট তুরাবের ভাই আবুল হোসেন মোহাম্মদ আজরফ জাবুর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন।
মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাদেক কাউসার দস্তগীর মামলার দ্বিতীয় আসামি।
প্রথমে মামলাটি এসএমপির কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও আদালতের নির্দেশে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৮ অক্টোবর মামলার নথিপত্র কোতোয়ালি থানা পুলিশ পিআইবির কাছে হস্তান্তর করে।
পরদিন বিকাল ৩টায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মুরসালিনের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থল (বন্দরবাজার কালেক্টরেট মসজিদের বিপরীত) পরিদর্শন করেন।