Published : 02 Sep 2026, 04:14 PM
পাবনার ঈশ্বরদীতে মারধরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে যাওয়া এক কিশোর মারা গেছে।
বুধবার ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে লালপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান।
নিহত মেহেদী হাসান (১৭) উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন।
নিহতের বাবা আনিছুর রহমান বলেন, “ভোর ৫টার দিকে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে গিয়ে দেখি আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় বেডে পড়ে আছে। শুনলাম কে বা কারা তাকে রেখে গেছে।
“আমার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কারা কেন তাকে এভাবে মারধর করে মেরে ফেলল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
মেহেদী আগের দিন অটোরিকশা ছাড়াই বের হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সাবিয়া মরিয়ম বলেন, মারধরে মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আঘাতের মাত্রা গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে চলে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেখতে পায়।
পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোরের লালপুরে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।