১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনায় ‘মাদক কারবারিদের’ গোলাগুলিতে নিহত ২, আহত ১

ওসি বলেন, নিহত ও আহত তিনজনই খুলনার আলোচিত মাদক সিন্ডিকেট ‘বি কোম্পানি’র সদস্য।

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jun 2025, 01:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:16 PM

খুলনার রূপসা উপজেলায় একটি বাড়িতে গোলাগুলিতে দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, বাড়ির মালিক ও হতাহতরা সবাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামি। 

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের রাজাপুর পপুলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। 

নিহতরা হলেন, খুলনা নগরের শেখপাড়া এলাকার ফজলুল হকের ছেলে সাব্বির শেখ (২৭) এবং নগরের সোনাডাঙ্গা থানার সোনার বাংলা গলির নূর ইসলামের ছেলে সাদ্দাম। 

আহতের নাম মিরাজ ওরফে ‘কাউয়া মিরাজ’ বললেও তার বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিনি পালিয়ে গেছেন। 

রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পাঁচ-সাত জনের একটি সশস্ত্র দল রাজাপুর পপুলার এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সোহাগের বাড়িতে হানা দেয়। সেখানে সাব্বির, সাদ্দামসহ আরও অনেকে ছিলেন।

পরে ওই বাড়িতে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে একটি গুলি সাব্বিরের মাথার পেছন দিয়ে ঢুকে চোখ ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়। অন্যদিকে মাথায় গুলিবিদ্ধ সাদ্দামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথে তার মৃত্যু হয়। 

ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সেখান থেকে চারটি গুলি, ছয়টি গুলির খোসা, কিছু ইয়াবা, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও গ্রেনেড সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। 

ওসি আরও বলেন, নিহত ও আহত তিনজনই খুলনার আলোচিত মাদক সিন্ডিকেট ‘বি কোম্পানি’র সদস্য। নিহত সাব্বির ও পলাতক মিরাজ সিন্ডিকেটের শীর্ষ নেতা ‘গ্রেনেড বাবু’র ঘনিষ্ঠ। 

নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি। 

খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আনিসুজ্জামান  বলেন, গত মাসে রূপসায় কালা রনি নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন সাব্বির। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।