খাগড়াছড়িতে যাত্রী নিহতের পর বাসচালকের লাশ উদ্ধার
ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের বাসের মালামাল রাখার বক্সের খোলা দরজা কয়েকজন যাত্রীর গায়ে আঘাত করে।
খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের মালামাল বহনের বক্সের দরজার আঘাতে এক যাত্রী নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বাসটির চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া চালকের লাশ সোমবার ভোরে নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রী ছাউনি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম।
তিনি বলেন, চালক মো. রব সেখের (৪৫) শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হৃদরোগ কিংবা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকাগামী শান্তি পরিবহণের একটি বাস চাষীনগর এলাকায় চাকা বিস্ফোরণের কারণে সড়কের পাশে থামে। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এর মধ্যে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বাসটির মালামাল রাখার বক্সের খোলা দরজা কয়েকজন যাত্রীর গায়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই শাহ আলম মারা যান। আহত হন আরও দুজন।
নিহত শাহ আলম (৩৫) খাগড়াছড়ি সদরের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা। আহত জুনায়েত (২৫) ও রুবেল কর্মকারকে (৩৫) রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি নাজির আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
পরে নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রী ছাউনি থেকে শ্যামলী পরিবহনের চালক রব সেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা।
চালকের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে তার পরিচয় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পুলিশ বলছে, তারা ধারণা করছেন, দুর্ঘটনার পর চালক গাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে। চালক গাড়ি রেখে আধা কিলোমিটার দূরের নাকাপা বাজার এলাকার বাসস্ট্যান্ডে চলে যান। তিনি সেখানে পোশাক পরিবর্তন করে হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
