Published : 05 May 2026, 06:24 PM
উচ্চ ফলন, ভালো দাম ও স্বল্প সময়ে ঘরে তোলা যায়- এমন সুবিধার কারণে গোপালগঞ্জে বাড়ছে ব্রি-১০৮ ধানের আবাদ। কৃষকদের মধ্যেও এ জাত নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, গত বছর সদর উপজেলায় প্রায় ১০ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ ধানের চাষ হয়। ভালো ফলন পাওয়ায় চলতি মৌসুমে তা বেড়ে প্রায় ১০০ হেক্টরে পৌঁছেছে।
“স্বল্প সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় এবং লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে সরবরাহ ও সাধারণ ভোক্তার নাগালে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগবে।”
ব্রি’র পরিচালক (গবেষণা) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রি-১০৮ একটি উচ্চফলনশীল ও স্বল্পমেয়াদি ধান। এর চালের মান ভালো এবং বাজারে দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই ধানের ফলন অনেকটা হাইব্রিড ধানের মত। একই সঙ্গে এর বীজ সংরক্ষণ করা যায়, যা কৃষকদের জন্য সুবিধাজনক। দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে এ জাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ব্রি জানায়, ২০২৪ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড এই জাত অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২৫ সালে গোপালগঞ্জে প্রথম মাঠপর্যায়ে এর চাষ শুরু হয়। হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় আট দশমিক সাত টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা অনুকূল পরিবেশে আরও বেশি হতে পারে।
এই ধানের চাল সরু এবং দেখতে পোলাওয়ের চালের মত। এতে প্রায় আট দশমিক আট শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। রান্নার পর ভাত ঝরঝরে এবং দীর্ঘ সময় ভালো থাকে।
এ ছাড়া ধানগাছ শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না এবং রোগবালাইও কম হয়। প্রতি শীষে ২৫০ থেকে ২৭০টি ধান পাওয়া যায়। পাতার আকার বড় হওয়ায় খড়ের পরিমাণও বেশি হয়।
এ ধানের বাজার দর বেশি। তাই চলতি মৌসুমে এ জাতের আবাদ বেড়েছে। ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যৌথভাবে প্রদর্শনী প্লট ও বীজবর্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে, এতে দ্রুত এ জাতের চাষ সম্প্রসারণ হচ্ছে।
সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামের কৃষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস গত বছর এক বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ করে প্রায় ৪৫ মণ ফলন পান। তিনি বলেন, “রোগবালাই কম ছিল, খরচও কম লেগেছে। বাজারে ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “চালের ভাত আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে, খেতেও খুব ভালো।”
বিঘায় মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা খরচে এই ফলন পেয়েছে একই গ্রামের কৃষক হাসেম শেখ। তিনি বলেন, “গত বছরও ভালো ফলন পেয়েছি, এবারও হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধানের চাষ করব।”
আরেক কৃষক আশুতোষ অধিকারী বলেন, “সরু দানার এই ধান বেশি ফলন দিচ্ছে। বাজারে এই চাল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।”
কৃষি বিভাগ জানায়, ব্রি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএডিসি যৌথভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রদর্শনী প্লট ও বীজবর্ধন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর ফলে দ্রুত এই ধানের আবাদ সম্প্রসারণ হচ্ছে।