১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ মারধর করে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

এ ঘটনার জন্য বিএনপি নেতাদের দায়ী করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপি।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 04:25 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুরে শহরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের মারধর করে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছেন। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে ‘কটূক্তি’ করায় প্রতিবাদ করা হয়েছে। 

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বেশকিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “শান্তি পূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ করেছি। তবে যেই অভিযোগটি এসেছে তা জেনে জানাতে পারব। কেননা ঘটনাটি অনুষ্ঠান শুরুর আগে হলে হতে পারে। ফরমালি যখন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তখন এ ঘটনা ঘটেনি।”

মারধরের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন জুলাই যোদ্ধা, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই শহীদ, পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান শুরুতে জুলাই যোদ্ধাদের কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হলে হঠাৎ তাদের ওপর চড়াও হন শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীরা। 

এ সময় গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, মারধর এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। 

ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ঘটনার পর পর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেছেন আহত জুলাই যোদ্ধা, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা টিপুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জাকির হোসেন মিন্টু ও ইমরান আল নাজিরসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দিচ্ছেন। এরপর তারা কক্ষের বাহিরে এলে টিপু জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন আদরকে মারধর করেন। এ সময় তাকে চড়-থাপ্পড় দিতেও দেখা যায়।

আহত জাকির হোসেন মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, “আমরা অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে বিএনপির লোকজন হাঙ্গামা শুরু করেন। আমি একজন গেজেটেড জুলাই যোদ্ধা। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে আহত হলে সরকার তদন্ত করেই আমাকে জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে। 

“অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা টিপু আমাকেসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর ধরে বের করে দেন। আমাকে মেরে তারা আহত করেছেন, যদি অন্যরা আমাকে রক্ষা না করত, হয়ত মেরেই ফেলত। আমাদের যে মারধর করা হয়েছে, সরকার কি পদক্ষেপ নেয় আমরা তা দেখতে চাই।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির বলেন, “শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটোরিয়ামে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ইমরান ও জাকিরকে চড়থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মেরে বের করে দেন টিপুসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা। 

“আমাদের বিএনপির লোকজন মারধর করেছে, তা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই। প্রশাসন এখানে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমরা চাই এ ঘটনার বিচার হোক।”

মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা টিপু বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের বড় অবদান জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, যেটা জামায়াতের আমিরও স্বীকৃতি দিয়েছেন। অভ্যুত্থানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যত লোক আহত, নিহত হয়েছেন, তা অন্য কোনো দলের হয়নি। 

“কিন্তু শরীয়তপুরের ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা তারেক রহমান ও তার পরিবার নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ লেখালেখি করে থাকেন। তারা এ অনুষ্ঠানে এসেও কটূক্তিমূলক কথা বলায় আমাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আমরা তাদের বের করে দিয়েছি।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেনের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের বক্তব্য না দিয়ে চলে যান।