১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ঘুষ নিয়ে ঘর নির্মাণের অনুমতি’: সখীপুরের বন কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ মন্ত্রীর

“ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।”

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 12:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের জমিতে ঘর নির্মাণে ঘুষ নিয়ে অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীর বিরুদ্ধে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলির নির্দেশ দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

রোববার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে জনসমক্ষে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নাজমুল আলমকে ফোন করে তিনি এ নির্দেশ দেন। 

এ সময় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান ডিএফওকে বলেন, ‘আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন-এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইল।”

বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৯ অগাস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। 

স্থানীয়দের দাবি, ঘরটি যেখানে নির্মাণ করা হয়েছিল রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তারা ওই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগ বলছে, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।

স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে মোবাইল ফোনে লাউড স্পিকারে ডিএফওকে মন্ত্রী বলেন, “বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি টিনের ঘর ছিল। রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘরটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ঘরটি কিছুটা বড় করায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়।”

আহমেদ আযম খান ডিএফওকে আরও বলেন, “আমি যত দিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেবো না। টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, “ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত।”

তিনি বলেন, অভিযানে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছেন। ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা শুধু অভিযানে সহযোগিতা করেছেন। এখানে তার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই।

এমরান আলী বলেন, “আমি যেখানেই যাবো, বন রক্ষায় কাজ করবো।”