১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় যৌথ অভিযানে লুট হওয়া পিস্তল উদ্ধার, আটক ৫

পূর্বধলা উপজেলার জালশুকা কুমুদগঞ্জ জামে মসজিদের ভেতর থেকে শপিং ব্যাগে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয় বলে নেত্রকোণার অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর জিসানুল হায়দার জানান।

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Sep 2024, 06:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

নেত্রকোণার পূর্বধলায় অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া পিস্তল উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী।

এ সময় অস্ত্র লুটে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- জেলার পূর্বধলা উপজেলার জামাইকোণা গ্রামের মৃত হাজী তালেব আলী সরকারের ছেলে মো. আতাউর রহমান (৩৯), জালশুকা গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম (২৩), গোহালাকান্দা গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন খান (১৮), মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (২৫), এবং ময়মনংসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিলাকান্দা গ্রামের নাম ছোটন সরকারের স্ত্রী মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস (২৬)।

শুক্রবার বিকালে পূর্বধলা উপজেলার জালশুকা কুমুদগঞ্জ জামে মসজিদের ভেতর থেকে শপিং ব্যাগে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় বলে শনিবার নেত্রকোণা অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের মেজর জিসানুল হায়দার জানান। 

গত ৪ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার সময় পূর্বধলা থানার পুরোনো অস্ত্র পাল্টিয়ে নতুন অস্ত্র দেওয়ার জন্য নেত্রকোণা সদর থেকে জেলা পুলিশের একটি গাড়ি অস্ত্র নিয়ে পূর্বধলা থানায় যাচ্ছিল। পথে পূর্বধলার শ্যামগঞ্জ বাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলের মধ্যে পুলিশের এই গাড়িটি আটকা পড়ে। এ সময় গাড়িটি থেকে পুলিশের ১০টি পিস্তল, ২৬টি ম্যাগাজিন, ৪২০টি পিস্তলের গুলি, ৪০টি রাইফেলের গুলি ও ৩২টি কাঁদুনে গ্যাসের শেল লুট হয়। 

তবে লুট হওয়া ১০টি পিস্তলের মধ্যে নয়টি উদ্ধার করা হল।

এছাড়া একটি অস্ত্রের ভাঙা অবস্থায় অর্ধেক অংশ পূর্বধলার সোয়াই নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছে।

লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী।

নেত্রকোণা সেনা ক্যাম্পের মেজর জিসানুল হায়দার বলেন, অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে নেত্রকোণা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন সাজিদ বিন রওশনের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালনা করেন পূর্বধলা ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন এ এম এন আকিব। 

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছিলেন নির্বাহী হাকিম সঞ্জীত সরকার।

মেজর জিসানুল হায়দার আরও জানান, এ ঘটনায় লুটকৃত অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব এবং আনসার সদস্যের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৫ পূর্বধলা থানাধীন শ্যামগঞ্জ এলাকায় রাতভর যৌথবাহিনীর অভিযান চলে। 

শুক্রবার গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয়দের সহায়তায় জালশুকা কুমুদগঞ্জ জামে মসজিদের ভেতরে পাওয়া একটি শপিং ব্যাগে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করে সেনা সদস্যরা।  

নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, শুক্রবার মোট দুটি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। একটি সেনাবাহিনী যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, আরেকটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বধলা উপজেলার সোয়াই নদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের মাধ্যমে উদ্ধার হয়। সেখানে একটি অস্ত্রের অর্ধেক অংশ পাওয়া গেছে। বাকি অর্ধেক অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।