২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ঠান্ডার কারণে জমির কাজে নামা যাচ্ছে না’

নিম্নআয়ের মানুষ ও কৃষিজীবীরা বাইরে বের হচ্ছেন শীত উপেক্ষা করেই।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2025, 05:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:40 AM

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তীব্র শীতে। মাঘের হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে এ জেলার বাসিন্দারা। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, জেলায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। সোমবার তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখন জেলায় বোরো ধান রোপণের মৌসুম চলছে। শীতের কারণে ধান রোপণে বেগ পেতে হচ্ছে কৃষকদের।

জেলার উপজেলার বোদা নয়াদিঘী গ্রামের কৃষক নুর নবী বলছিলেন, “গত দুই দিন ধরে সামান্য সময়ের জন্য রোদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। ঠাণ্ডার কারণে কৃষি কাজের জন্য সকালে জমিতে নামা যাচ্ছে না। পানিতে পা দিলে মনে হয় হাত-পা বরফ হয়ে যায়।

“আর এখন ধান লাগানোর কাজ চলছে। এই ঠাণ্ডায় সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজে নামা যায় না।”

আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, “আকাশের উপরিভাগে মেঘ এবং ঘন কুয়াশার কারণে শীত বেশি অনুভুত হচ্ছে। জানুয়ারি মাস জুড়ে শীত এমন থাকবে।”

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ১০টার পর সূর্য উঠলেও হিমেল বাতাসের কারণে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই নিম্নআয়ের মানুষ ও কৃষিজীবীদের ঘরের বাইরে বের হতে দেখা গেছে। গায়ে মানুষ মোটা কাপড় চাপিয়ে সাইকেল চালিয়ে অথবা পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তারা।

সকালে জেলার শীতের দাপট কম থাকলেও রাত বাড়তেই তা আবার বেড়ে যায। প্রতিদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকছে পথঘাট। এ পুরস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরাও। কুয়াশার কারণে সকালের দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

মঙ্গলবার বোদা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় ভ্যান চালক মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আজকে সকাল থেকে কুয়াশা কম থাকলেও হিমেল বাতাস বইছে। এই কারণে শীত বেশি অনুভব হচ্ছে।

“বিকালের পর থেকে শীত আরও বেশি পড়ে। তখন ভ্যান চালানো খুব কঠিন হয়ে যায়।”

এদিকে শীতের কারণে বিভিন্ন শীতজনিত রোগও বাড়তে শুরু করেছে। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।  

চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।