Published : 30 Dec 2025, 04:51 PM
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে সারাদেশে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে তার দল বিএনপি।
তবে রাষ্ট্র বা দল শুধু নয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়াসহ নানাভাবে খালেদা জিয়ার প্রতি শোক-শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তারা।
লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ৪০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চাঁদপুরজুড়ে শোকাবহ পরিবেশ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর চাঁদপুর ছাড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জেলা শহরের অলিগলি, বাজার ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে কোথাও কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা নেই; আছে শুধুই স্মৃতিচারণ, দীর্ঘশ্বাস ও শ্রদ্ধার অনুভূতি।
চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করেন।

জেলার নানা স্থানেই কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া মাহফিল ও শোকবইয়ে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন দল- শ্রেণিপেশার মানুষ খালেদা জিয়ার প্রতি স্মৃতিচারণ করেন।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও চাঁদপুর-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকসহ বলেন, “আমাদের নেত্রী একজন আপসহীন, নির্ভীক রাজনীতিক ও দেশপ্রেমিক নেতা ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় দেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না।”
পিরোজপুরে খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পিরোজপুরে। দলের চেয়ারপারসনকে হারিয়ে শোকাহত বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সকাল খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা শহরের জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আসতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে কোরআন খতম করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এছাড়াও দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, শোক বইয়ে স্বাক্ষর করা সহ বিভিন্ন কর্মসুচি নিয়েছে জেলা বিএনপি ও তার বিভিন্ন সহযোগি অঙ্গসংগঠন।
পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, “আজকে পুরো জাতি শোকাহত। তিনি সবসময় দলের ও দেশের মানুষের খোঁজ নিতেন। তার জীবনের আদর্শ যেন আমরা দলের নগণ্য কর্মী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি এটাই আমাদের কামনা।”
পিরোজপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, “ভোরে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের দেশমাতা আর নেই। আমরা অভিভাবক শুন্য হয়ে গেলাম। খালেদা জিয়া মানব কল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন। বেগম জিয়া আজ আমাদের মাঝে নাই, তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, “পিরোজপুরের বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেবার জন্যে ঢাকায় যাবেন।”
রাজবাড়ীতে শোকের ছায়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজবাড়ীতে নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা, কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। পরে নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে মহিমা সেই মহিমা পূরণ হবার নয়। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মহাশূন্যতা তৈরি হয়েছে।”
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেন, সকাল থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে কোরআন খতম চলছে। সারাদিন ধরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ দিন শোক পালন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নঈম আনসারি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, যুগ্ম আহ্বায়ক এ মজিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল প্রমুখ।
নওগাঁয় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নওগাঁয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সকাল থেকেই নওগাঁ শহরের কেডির মোড়স্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় জমতে দেখা যায়।
জেলা যুবদলের উদ্যোগে সকালে কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, সদস্য সচিব রুহুল আমীন মুক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন।
শোকস্তব্ধ ঠাকুরগাঁও
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও জেলা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
মঙ্গলবার ভোরে বেগম জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেমে আসে নীরবতা। বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে কালো ব্যানার টানানো হয় এবং নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক প্রকাশ করেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি আজীবন অটল ছিলেন। তার মৃত্যু জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মাঝেও দেখা গেছে গভীর শোক। অনেকেই তাকে স্মরণ করছেন একজন সাহসী, দৃঢ়চেতা ও দেশপ্রেমিক নেত্রী হিসেবে। তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিনিয়র আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান বাদল চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি আজ চিরবিদায় নিয়েছেন। এতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তার মৃত্যুতে আজ বাংলাদেশ একজন অভিভাবককে হারিয়েছে।

শেরপুরে খোলা হয়েছে শোক বই
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শেরপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শেরপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের জন্য খোলা হয়েছে শোক বই।
বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত চলছে।
এছাড়া জেলার বিভিন্ন মাদ্রসায় ও মসজিদে কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো ব্যাজ ধারণ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বেলা ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক পালন করেন।
এ সময় সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মৃতের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুর রব বলেন, “আজ আমরা অত্যন্ত বেদনাদায়ক সময় পার করছি। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষের জননেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।
“তিনি দীর্ঘ সময় যেভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জাতি পরিচালনায় যে আদর্শ ও চেতনা রেখে গেছেন, তা আমরা আগামীর দিনগুলোতে বহন করব।”
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আজ আমরা একজন আপসহীন নেত্রীকে হারিয়েছি। মহান রাব্বুল আলামিন তাকে জান্নাত দান করুন। সব কিছুর ঊর্ধ্বে উঠে তিনি আপসহীনভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার আদর্শ ধারণ করেই আমাদের এগোতে হবে।”
এদিকে আলাদা শোকবার্তায় জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি একজন গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবক ও রাষ্ট্রনায়ককে হারাল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকার কারণে তিনি ‘আপসহীন দেশনেত্রী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উপাচার্য তার শোকবার্তায় মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ছাড়া খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও জাবিসাস আলাদা শোকবার্তায় গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের শোক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর।
মঙ্গলবার পৃথক শোকবার্তায় তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, “খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন সংগ্রামী নেত্রী। গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে দেশের উচ্চ শিক্ষার ৭০ শতাংশ প্রদান করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।”
ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে কাজ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন।”
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ হারালো গণতন্ত্রের একজন অভিভাবককে। ”
খালেদা জিয়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এর প্রতিষ্ঠাতা চ্যান্সেলর ছিলেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “পদবির বাইরেও খালেদা জিয়া ছিলেন লড়াইয়ের প্রতীক, নীরব সহনশীলতার শক্তি ও অদম্য সাহসের ভাষা। তিনি অপমান, অবিচার, কারাবাস এবং দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও মাথা নত করেননি। ক্ষমতাকে নয়, দায়িত্বকে বেছে নিয়ে দেশকে ভালোবাসার অর্থ তিনি আমাদের শিখিয়েছেন।”
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সিরাজগঞ্জে নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া
বিএনপির চোয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সিরাজগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিন সকালে দলীয় প্রধানের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে ছুটে যান নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে শোকাহত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন নেতাকর্মীরা।
এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দিনব্যাপী শোক পালন শুরু করেছে দলটি। দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত, কোরআন খতম, মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে প্রার্থনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় একই কর্মসূচি পালন করা হবে।

গোপালগঞ্জে কোরআন খতমসহ নানা কর্মসূচি
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জে কোরআন খতমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে জেলা বিএনপি। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিএনপি পরিবার।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে শহরের নতুন বাজার সুপার মার্কেটের দোতলায় দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পরে সেখানে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতম করা হয়। এরপর কালো ব্যাচ ধারণ করা হয়। এ ছাড়া শোক বই খোলা হয়েছে; যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক জ্ঞাপন করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিরবিদায়ে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে উপাচার্য অধ্যাপক হোসেন উদ্দিন শেখর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সোহেল হাসান ও ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুল আহসান শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
পরে এক শোক বার্তায় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান দেশ ও জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে জানানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের শোক
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব।
মঙ্গলবার এক শোক বার্তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব সদস্য তথা সাংবাদিকরা শোকাহত। খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকাবহ পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা।