দ্বিতীয় স্ত্রী হত্যায় যাবজ্জীবন, তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বরিশালের মুলাদী থানায় সোহরাবের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়।
দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যা ও লাশ গুমের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রকিবুল ইসলাম ওই রায় দেন বলে জানান বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।
দণ্ডিত সোহরাব হোসেন আকন (৪৭) মুলাদী উপজেলার তয়কা গ্রামের লাল মিয়া আকনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান বলেন, এর আগে ২০০৯ সালে যৌতুকের দাবিতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও অন্তঃস্বত্তা মিলি বেগমকে হত্যার পর লঞ্চ থেকে লাশ মেঘনা নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন সোহরাব হোসেন। সেই হত্যা মামলায় বরিশালের একটি আদালত তাকে ফাঁসির রায় দিয়েছিল।
পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে উচ্চ আদালতের বিচারক ফাঁসির রায়ের পরিবর্তে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন।
এর মধ্যে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে সোহরাবের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়। এছাড়া তার প্রথম স্ত্রী বিলকিস বেগম, তিনি ঢাকায় থাকেন বলে জানান আদালতের বেঞ্চ সহকারী।
তৃতীয় স্ত্রীকে হত্যার মামলার বরাতে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, “সোহরাবের তৃতীয় স্ত্রীর নাম লিমা বেগম। তিনি মুলাদী উপজেলার তেরচর গ্রামের বাসিন্দা হোচেন পাটোয়ারীর মেয়ে। লিমা তার প্রথম স্বামী ফেরদৌসকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই থাকতেন।
“সোহরাব সে বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে তিনি ফেরদৌসকে হত্যার হুমকি দিয়ে লিমাকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। পরে লিমাকে বিয়ে করে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। সে দাবিতে লিমাকে শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।”
বিশেষ পিপি বাচ্চু আরও বলেন, “এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর সোহরাব লিমার বাবার বাড়িতে গিয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে লিমাকে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
“বিষয়টি পাশের কক্ষে থাকা লিমার ছোট ভাই দেখতে পেলেও লিমা অচেতন হয়ে গেছে দাবি করে সোহরাব। পরে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার কথা বলে স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে বের হয়ে যায় ।”
এরপর থেকে লিমাকে আর কখনো খুঁজে না পাওয়ায় ২০১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি সোহরাব ও তার মাকে আসামিকে করে মুলাদী থানায় হত্যা এবং লাশ গুমের অভিযোগে মামলা লিমার বোন ডলি বেগম।
পরে মুলাদী থানার এসআই মো. জুবায়ের ২০১৪ সালের ১০ মে একমাত্র সোহরাব হোসেন আকনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
বিশেষ পিপি মোখলেচুর রহমান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘসময় ধরে চলা এ মামলায় আদালতে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন ১১ জন সাক্ষী। পরে রোববার লিমা বেগমকে হত্যা করে লাশ গুম করার দায়ে সোহরাবকে ফাঁসি ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন বিচারক।
এছাড়াও লাশ গুম করায় সোহরাবকে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌসুলি।
