Published : 01 May 2026, 12:00 AM
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা পথে চলাচলকারী ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা পথে চলাচলকারী ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এ চুক্তি বাতিল করা হয়েছে বলে রেলওয়ে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহীর মুখ্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ট্রেন দুটি আগে লাভজনকভাবে সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হত। পরে তা বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া হয়। এজন্য ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বান, ১৯ মে দরপত্র খোলা এবং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যাচাই-বাছাই শেষে রেলের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হয়।
২২ ডিসেম্বর তিন বছরের জন্য কার্যদেশ দেওয়া হয় ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। তারা চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ট্রেনটি চালু করেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওই প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া, ভ্যাট এবং উৎস কর পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় চুক্তির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
রেলওয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, শর্তভঙ্গের কারণে তিন মাস ১৭ দিন চালানোর পর এইচ অ্যান্ড এম ট্রেডিং করপোরেশনের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি মঙ্গলবার থেকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আইনাল হাসান বলেন, “আজ থেকে ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবার বহাল থাকবে।”
১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই পথে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধনের পর ১১ বছর (২০১০ সালের ২৮ জুলাই পর্যন্ত) সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। পরে বেসরকারি খাতে ‘মেসার্স বান্না এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘ইসলাম শিপ বিল্ডার্স’ চুক্তিবদ্ধ হয়ে এই ট্রেন পরিচালনা করে।
বেসরকারি টিকেট ব্যবস্থাপনায় যাত্রীসেবার মান নিম্নমুখী, চোরাকারবারি ও টানাপাটির দখলে চলে গেলে ২০১৩ সালে আবার সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে আসে। ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী। বেশিরভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ পথে ভারতে যাতায়াত করেন। লাভজনক ও যাত্রীসেবার মান বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ১ মার্চ থেকে এ পথে দিনে দুইবার যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।