Published : 09 Apr 2026, 11:06 PM
১৯৭৮ সালের দিকে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত কাজে প্রতিনিয়ত ট্রেনে ভ্রমণ করতেন গাজীপুরের মো. মফিজুল ইসলাম। যেতেন বিনা টিকেটে, ফিরতেনও বিনা টিকেটেই।
প্রায় অর্ধ শতাব্দী পর ষাটোর্ধ্ব মফিজুলের অনুশোচনা শুরু হয় বিনা টিকেটে ভ্রমণ নিয়ে। তিনি ভ্রমণের সেই টাকা পরিশোধের উপায় খুঁজছিলেন।
অবশেষে ১ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে সেই বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণের জন্য ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
শ্রীপুর উপজেলার চন্নাপাড়া গ্রামের মফিজুল বলছিলেন, তিনি এখন ‘দায়মুক্ত’। রেলের টাকা পরিশোধ করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
মফিজুল বেপারিবাড়ী ফাতেমাতুজ যোহা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠা পরিচালক।
তিনি বলছিলেন, ১৯৭৮ সালের দিকে জীবিকার তাগিদে কিশোর বয়সেই ব্যবসা শুরু করেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় শ্রীপুরে উৎপাদিত কাঁঠাল ট্রেনের ছাদে করে নিয়ে তিনি ঢাকায় বিক্রি করতেন। যাতায়াতের সময় তিনি কোনো টিকিট কাটতেন না। তার পরিবর্তে ট্রেনে যারা দায়িত্ব পালন করতেন তাদের এক টাকা করে দিয়ে দিতেন। এভাবেই দুই-তিন বছর নিয়মিত যাতায়াত করেছেন তিনি।
“ট্রেনের লোকদের হাতে টাকা দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু সেই টাকা তো সরকারের কোষাগারে যায়নি। গিয়েছে ব্যক্তির পেটে। তাহলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তো আমার কাছে টাকা পায়। অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল, এই টাকাটা আমার পরিশোধ করা দরকার। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম।”
এমন দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি ছুটে যান শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনে। স্টেশন মাস্টারকে অনুরোধ করেন তাকে ২০ হাজার টাকার টিকিট দেওয়ার জন্য। তবে একসঙ্গে এত টাকার টিকিট না থাকায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান হয়।
এর পর এক সপ্তাহ অপেক্ষা করেন। ১ এপ্রিল মফিজুল রেলওয়ের বিশেষ রশিদের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান বলেন, মফিজুলের টাকা ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। রেলওয়েতে এভাবে পুরনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের আইনি বিধান রয়েছে।
“মফিজুল সাহেব এসে যখন বিষয়টি খুলে বললেন, আমরা তার মানসিকতায় মুগ্ধ হয়েছি। জীবনের এক পর্যায়ে যখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং দায়মুক্ত হতে চেয়েছেন, তা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। যে কেউ চাইলেই এটা করতে পারেন।”