Published : 17 Mar 2026, 01:50 PM
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিজয় কুরী নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে।
নিখোঁজ বিজয় কুরী বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মান্দারী বাজার শাখার সভাপতি এবং ‘সীমা শিল্পালয়ের’ স্বত্ত্বাধিকারী।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিজয় কুরীকে উদ্ধারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুস জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন হয়েছে।
মান্দারী বাজারে অনুষ্ঠিত ওই মানববন্ধন থেকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবসায়ী বিজয় কুরীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন বাজুসের জেলা সভাপতি সমীর কর্মকার। দাবি আদায়ে মান্দারী বাজারের সব স্বর্ণের দোকান বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
মানববন্ধনে সমীর কর্মকার বলেন, “স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিজয়কে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিজয়ের মুক্তি চাই।”
এর আগে সোমবার রাতে মান্দারী বাজারের মালাকা বাড়ি এলাকার বাড়ি থেকে বিজয়কে মারধরের পর একটি অটোরিকশায় করে প্রতিবেশী উজ্জ্বল চন্দ্র দাস ও গণেশ দাস অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে তার ছেলে অভিযোগ তোলে।
বিজয় লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-প্রচার সম্পাদক। এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা উজ্জ্বল ও গণেশ পেশায় দিনমজুর বলে জানা গেছে।
মান্দারী বাজারের স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রায় এক বছর ধরে জমি নিয়ে বিজয় কুরী ও উজ্জ্বল চন্দ্র দাসদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তারা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির কাছে যান। তিনি ঘটনাটি মীমাংসার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের দায়িত্ব দেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনাটি নিয়ে ঈদের পরে বসার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই উজ্জ্বলরা বিরোধীয় ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তাতে অন্তত সাত জন আহত হন। সেখান থেকেই বিজয় কুরীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে।
বিজয়ের ছেলে পিকলু কুরীর ভাষ্য, “আমাদের জমিতে উজ্জ্বল চন্দ্র দাস ও গণেশ চন্দ্র দাস লোকজন এনে ‘জোরপূর্বক’ রাতের অন্ধকারে ঘর নির্মাণ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে ঘর নির্মাণের খুঁটি ফেলে দিলে আমিসহ আমার বাবা ও ভাইকে পিটিয়ে আহত করে তারা।
“এক পর্যায়ে আমার বাবাকে তারা টেনেহিঁচড়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। কোথাও আমার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উজ্জ্বল ও গণেশের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে গণেশের স্ত্রী প্রতিমা রাণী দাসের সঙ্গে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রতিমা বলছেন, “২০১৯ সালে আমরা আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পৌনে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করি। বিজয় আমাদের জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। সোমবার দুপুরে আমরা একটা ঘর করি ওই জমিতে।
“রাতে বিজয় ও তার ছেলেরা একদল লোক এনে আমাদের ঘরটি ভেঙে দেয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। বিজয় নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক করছে। আমরা তার বিষয়ে কিছুই জানি না।”
বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মানিক সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শিমুল সাহা বলেন, “আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিজয় কুরীকে উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিসয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। এখনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।