Published : 21 Aug 2025, 02:49 PM
পঞ্চগড়ে পৃথক এলাকায় পুকুর ও ডোবায় ডুবে দুই শিশু ও এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মৃতরা হলেন- আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চুচুলী পটেশ্বরী গ্রামের সুজন ইসলামের মেয়ে মুনিয়ারা (১৩), একই ইউনিয়নের আরাজী মণ্ডলহাট বলরামপুর গ্রামের অনিক চন্দ্র রায়ের ছেলে মোহন চন্দ্র রায় (৪) ও সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ফুঁটকি পাড়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম সোহাকের ছেলে আব্দুল্লাহ আলিম আদনান (৬)।
আটোয়ারী বলরামপুর ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাদ্দাম বলেন, “চুচুলী পটেশ্বরী এলাকায় বাড়ির পাশের পুকুরে প্রতিবেশী এক মেয়ের সঙ্গে গোসল করতে নামে মুনিয়ারা। সাঁতার না জানায় মুনিআরা এক পর্যায়ে পুকুরের গভীর অংশে চলে যায় এবং ডুবে যায়।
“পরে প্রতিবেশী মেয়েটির চিৎকারে বাড়ির লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক মুনয়ারাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
আটোয়ারী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, “বলরামপুর ইউনিয়নের আরাজী মণ্ডলহাট এলাকায় বাড়ির উঠানে খেলা করছিল মোহন চন্দ্র রায়। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে তাকে ডোবায় ভাসতে দেখা যায়।
“তাকে উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাদমান সাকিব বলেন, “মোহন ও মুনিয়ারা নামে দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তারা পানিতে পড়ে গিয়েছিল। এখানে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়।”
সদর থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, “হাড়িভাসা ইউনিয়নের ফুঁটকি পাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ আলিম আদনানকে ঘরের মধ্যে রেখে গোসলে যায় তার চাচা। পরে চাচাকে খুঁজতে ঘর থেকে বের হয় সে।
“পরে চাচা তাকে দেখতে না পেয়ে বাড়ির বাইরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে আদনানকে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।”
পুলিশ বলছে, দুই শিশু ও এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনটি ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।