শুধু আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে মাতামাতি নয়, তরুণদের উদ্ভাবনে আসতে হবে: মির্জা ফখরুল
“ফ্যামিলি কার্ড দেশের প্রায় চার কোটি মায়ের কাছে পৌঁছানো হবে শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রত্যেকেই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।”
তরুণ প্রজন্মকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের মোলানী গ্রামে স্থানীয় উদ্ভাবক সোলেমান আলীর ‘সোলার সেচপাম্প’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
সোলেমান আলীর এই উদ্ভাবনের প্রশংসা করে দেশের যুবসমাজকে চাকরি বা পরনির্ভরশীলতার পেছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান ফখরুল।
সোলেমান আলীর দিকে দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “খালি রাস্তাঘাটের মসজিদ-মাদ্রাসা চাইলে উন্নয়ন হয় না, এইটা হচ্ছে উন্নয়ন। নিজের আয় বাড়াইছে, মানুষের আয় বাড়ায়। এটাই হচ্ছে কাজ। রাস্তাঘাট তো চলবেই, রাস্তাঘাট হবেই, সরকার করবেই। অবকাঠামো বাড়াবে। এগুলো হচ্ছে কাজ।”
“শুধু খেলা দেখে বা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে মাতামাতি করে উন্নতি সম্ভব নয়। তরুণদের উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও ব্যবসার দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।”
সোলেমান আলীর উদ্ভাবনকে জাতীয়ভাবে তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশপাশি তরুণদেরও নিজস্ব উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সোলার সেচপাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফখরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মিলিত হন। এ সময় তিনি বিএনপি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি যে, তার ফ্যামিলি কার্ড এটা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই ফ্যামিলি কার্ড দেশের প্রায় চার কোটি মায়ের কাছে পৌঁছানো হবে শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রত্যেকেই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন।
“মহিলাদেরকে যারা আপনার সংসারের মধ্যে প্রধান, তাকে সাহায্য করা হচ্ছে, যাতে করে তিনি সংসারটাকে ধরে রাখতে পারেন, একই সঙ্গে সঞ্চয় করতে পারেন। এরপর খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।”
ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “মসজিদ, মন্দিরের যারা পুরোহিত, ইমাম, খাদেম আছেন, মোয়াজ্জেম আছেন, তাদেরকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এটা একটা ব্যাপক আপনার যে সমাজের যে নিরাপত্তা, সামাজিক যে নিরাপত্তা বলা হয় সোশ্যাল সিকিউরিটি।
“যাতে করে সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক মানুষ তারা কিছুটা উপকৃত হতে পারে এবং দারিদ্র্যের কাছ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই দেশে এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যারা পিছিয়ে পড়ে যাওয়া মানুষ, তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই, সরকার সহযোগিতা করতে চায়।”
অনুষ্ঠানের শেষে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে তারা গণমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী ঠাকুরগাঁও জেলার ২৬৫ জন অসহায় মানুষদের মাঝে দশ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেন।
এছাড়াও তিনি ঠাকুরগাঁও জেলায় তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
