১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলীকে অপসারণের দাবি বিএনপির

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত এক দশকে নলছিটি পৌরসভায় অন্তত ৩০ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Aug 2026, 05:16 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার সকালে নলছিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও নলছিটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এনায়েত করিম মিশু।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান খান হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এনায়েত করিম মিশু, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সরোয়ার হোসেন তালুকদার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্নাসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গত এক দশকে অন্তত ৩০ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনায় সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান জড়িত বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতারা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় চারটি সড়ক নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র চলতি বছরের মার্চে আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ইউনুস ব্রাদার্স নির্বাচিত হলেও ছয় মাস পার হলেও এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। 

মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের নামে অযথা সময়ক্ষেপণ করে কমিশন আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। এতে দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদারেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা হুমকির অভিযোগ এনে সম্প্রতি বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান। 

ওই জিডি প্রত্যাহার না হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান বিএনপির নেতারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নলছিটি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুজ্জামান বলেন, “আমাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করার পর কয়েকজন মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।”