২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রলীগ নেতার জামিন নিয়ে ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরোধে সংঘর্ষ

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসদর বাজারে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2025, 01:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:28 PM

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ছাত্রলীগের এক নেতার জামিন নিয়ে ছাত্রদল ও যুবদল নেতার বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। 

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত আজমিরীগঞ্জ পৌরসদর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, আজমিরীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রিক্ত করিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার আসামি।

সোমবার সকালে রিক্ত করিমের জামিন করাতে মামলার বাদী ইবজল মিয়াকে আজমিরীগঞ্জ চৌকি আদালতে নিয়ে যান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ। মারুফ আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা কুতুব মিয়ার ছেলে। 

এ নিয়ে মারুফের সঙ্গে বাক বিতণ্ডা হয় আজমিরীগঞ্জ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমানে পৌর যুবদলের নেতা ফখরুল ইসলামের। ফখরুল পৌরসভার নগর গ্রামের বাসিন্দা রশিদ মিয়ার ছেলে। 

মারুফ ও ফখরুলের মধ্যে বাক বিতণ্ডার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয় নিয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় মারুফের পক্ষের কয়েকজন ফখরুলের বিরুদ্ধে পৌরসদরে মিছিল করে। 

এ সময় ফখরুলের পক্ষের লোকজন বাধা দিতে আসলে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও ইট পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

টানা প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 

পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ বলেন, “এক আসামির জামিন করানোকে কেন্দ্র করে আদালতে ফখরুল ইসলাম আমার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় তার বিরুদ্ধে আজমিরীগঞ্জ সদরে আমি একটি মিছিল বের করি। তখন ফখরুল ও তার লোকজন আমাদের উপর হামলা চালায়। এরপরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”

পৌর যুবদল নেতা ফখরুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রলীগের রিক্ত করিম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আমাদের বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ মামলায় বতর্মানে সে কারাগারে আছে। সম্প্রতি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে জামিন করানোর চেষ্টা করে। 

“সেজন্য সোমবার মামলার বাদী ইবজল মিয়াকে জোরপূর্বক মারুফ আহমেদ আদালতে নিয়ে যায়। এ সময় আমি তাতে বাধা দেই। এর জের ধরে মারুফের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিছিল বের করে। তখন আমরা পাল্টা মিছিল বের করলে সংঘর্ষ হয়।”

সংঘর্ষের বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুল আলম বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলার আসামিকে জামিন করানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা ফখরুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা মারুফ আহমেদের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা এ বিষয়টি দেখছি।”

বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”