Published : 28 Sep 2025, 10:19 PM
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাবার ‘অমানবিক আচরণের’ শিকার চার বছর বয়সী এক শিশুকে তালাবদ্ধ বাসা থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকা থেকে উদ্ধারের পর শিশুটিকে রোববার সকালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জিম্মায় দেওয়া হয় বলে জানান ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরীফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শনিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের তালা ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রুগ্ন শারীরিক অবস্থার কারণে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে, এই ঘটনার পর থেকে শিশুটির বাবা মো. সোহেল পলাতক রয়েছেন বলেও জানান ওসি। সোহেল ওই এলাকার প্রয়াত মোমেন আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী শিশুটির বরাতে ওসি বলেন, দুই বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় সোহেলের। তারপর শিশুটি তার মায়ের কাছেই ছিল। কয়েক মাস আগে জোর করে শিশুটিকে নিজের কাছে এনে রাখেন সোহেল।
কিন্তু সোহেল ঠিকভাবে শিশুটির দেখভাল করতো না। বাইরে বের হওয়ার সময় শিশুটিকে ঘরের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখতেন। এমনকি খাবারের জন্য কান্নাকাটি করলেও মারধর করত, ফলে শিশুটি অধিকাংশ সময় অনাহারে থাকতো।
শিশুটির বাসার পাশেই একটি দোকান চালান মো. শাওন। তিনি বলেন, “সোহেল একজন মাদকাসক্ত। ক্ষুধায় কান্না করলেও শিশুটিকে ঠিকমতো খাবার দিতো না সে। কখনো কখনো শিশুটিকে জুস বা চিপস কিনে দিলেও অধিকাংশ সময় শিশুটিকে মারধর করা হতো।”
প্রতিবেশী কেউ এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকেও সোহেল ‘গালমন্দ’ করতেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এ বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, দুইদিন আগে শিশুটির শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে একটি সামাজিক সংস্থার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এক ব্যক্তি। পরে ওই সংস্থা থেকে থানায় অবহিত করা হয়।
ওসি শরীফুল বলেন, “শিশুটির শরীরের একাধিক স্থানে ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। কতটা পাষণ্ড হলে একজন পিতা শিশু সন্তানের সঙ্গে এমন করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।”
সোহেল পলাতক থাকায় শিশুটির মায়ের কোনো তথ্যও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে জানিয়ে অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মী মোসাম্মৎ তাছলিমা আক্তার বলেন, “পুষ্টিহীনতা এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ায় শিশুটি বর্তমানে খুবই অসুস্থ। এর ফলে তার চিকিৎসাটা এখন বেশি জরুরি।”
পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের খোঁজ না পাওয়া গেলে চিকিৎসা শেষে শিশুটির বয়স অনুযায়ী সরকারি ছোটমণি নিবাসে রাখা হবে বলে জানান তিনি।
শিশুটির চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা হবে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাছলিমা শিরিন।