ধর্ষণ মামলার শুনানিতে আসামিকে বিয়ে করার আর্জি, আদালতে হট্টগোল
আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতে আদালতে কাজী ডাকার দাবি জানান মামলার বাদী ওই নারী।
ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালে আসামিকে সাজা না দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বিচারকের কাছে দাবি জানান বাদী।
একপর্যায়ে বিয়ে না দিলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকিও দেন তিনি।
রোববার দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্কের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আককাস সিকদার।
মামলার আসামি মো. আল-আমিন মোল্লা রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই। তিনি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বাসিন্দা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, যুক্তিতর্ক চলার সময় বাদী কয়েকবার হট্টগোল করেন। বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আসামির সাজা হলে তাকেও ফাঁসি দিতে হবে। তিনি আসামির শাস্তি চান না, তাকে স্বামী হিসেবে চান। পাশাপাশি আল-আমিনের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেন।
পরে আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতে কাজী ডাকার দাবি জানান বাদী। বিয়ে না দিলে বিষ খেয়ে বিচারকের সামনে আত্মহত্যা করবেন বলেও হুমকি দেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক তাকে শান্ত হতে বলেন।
আইনজীবী আককাস সিকদার বলেন, বাদী আসামিকে বিয়ে করার দাবি জানিয়ে আদালতে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন। সেখানে বিয়ে না হলে নিজে ও তার আগের স্বামীর সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, যুক্তিতর্কের সময় বাদী তার ওপরও চড়াও হন এবং উচ্চস্বরে কথা বলেন। এতে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। পরে বিচারকের সামনেই আসামির সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার দাবি করেন তিনি।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাদী। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।
২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বাদী, তার নাবালক ছেলেসহ চারজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাদী বলেন, “আমি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফিরে পাওয়ার জন্য মামলা করেছি। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যেকোনোভাবে আল-আমিনকে চাই।”
