২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক, মলিন কৃষকের মুখ

একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 May 2026, 09:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। এবার ফলন ভালো হলেও ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ কৃষক। এক মণ ধানের দামেও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। কষ্টে ফসল ঘরে তুলতে না তুলতেই কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে।

কথা হয় উপজেলার জুলগাঁও গ্রামের কৃষক মো. আসাদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “একসঙ্গে মাঠের সবার ধান পেকে গেছে; তার ওপর বৃষ্টি। নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ কিন্তু ধানের দাম পড়ে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে, বুঝতে পারছি না।”

ধান উৎপাদনে তাদের যে খরচ হয়েছে, বিক্রি করতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম দামে। সরকার নির্ধারিত মূল্যও না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে মাঠভরা পাকা ধান। তবে এই সম্ভাবনার মাঝেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এর মধ্যে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। 

বালিয়াগাঁও গ্রামের কৃষক সাদ্দাম মণ্ডল বলেন, “ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাজারে ধানের দাম বাড়েনি। এতে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধান চাষ হয়েছে। এবার ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সপ্তাহ ধরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে। 

তিনি বলেন, জমির ধান ৮০ ভাগ পেকে গেলেই কেটে ফেলেন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিলা বৃষ্টি ও আগাম পানির কারণে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ছাড়া কৃষকেরা যেন তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান।

তবে সরকার ঘোষিত এক হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।