Published : 10 Feb 2026, 07:11 PM
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে ‘অনিশ্চিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়’ ও ‘নিরাপত্তাহীনতা’ বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত না হলে সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
ফুয়াদ বলেছেন, “এই নির্বাচনে কি হবে। কোন দল কি করবে না করবে, সেই পরিসংখ্যান ও তথ্য বাংলাদেশের কারো কাছে নেই।
“আপনারা বিভিন্ন জরিপ দেখতে পাচ্ছেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এত শতাংশ এই শতাংশ, এটা বোঝা যাবে ভোটারদের যদি নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় এবং নিরাপদে সে ভোট দিয়ে ফেরত আসতে পারে। এর বাইরে কোনো পরিসংখ্যান কারো পক্ষে-বিপক্ষে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনারের কথা, প্রধান উপদেষ্টার কথা-ঈদের আনন্দ; ঈদের মতো নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে যাবে। সেই ঈদের আনন্দ এলাকায় দেখতে পাচ্ছি না। আমরা ভোটারদের মধ্যে ভয় দেখতে পাচ্ছি। কার ব্যাচ পড়বে, কার ভ্যান গাড়িতে চড়বে এ নিয়েও তারা ভয়ের মধ্যে আছে।
“ভোটাররা কেন্দ্রের কোন পাশ দিয়ে ঢুকবে, কোন পাশ দিয়ে ঢুকবে না এ নিয়েও ভয়ের মধ্যে আছে। কার দোকানে বসে চা খাবে, কার দোকানে খাবে না এ নিয়েও চিন্তার মধ্যে রয়েছে। কারণ এ দোকানে উমুকরা বসে ওই দোকানে তমুকরা বসে। এ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।”
ফুয়াদ বলেন, এ চিত্র বরিশাল-৩ আসনের জন্য নয়। সারা বাংলাদেশের চিত্রটাই এরকম। শেষ মুহুর্তেও যদি আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসন সিরিয়াস হয়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মাঠের চিত্র বদলে দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের ইতিহাস বদলে গেছে, এরকম অনেক বহু অপারেশন আছে। চব্বিশ ঘণ্টায়, চার ঘণ্টায় পুরো দেশের মানচিত্র বদলে গেছে।
“এখনো সময় আছে মাঠ প্রশাসন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশন যদি সিরিয়াস হয় এটা পারবে। কে জিতবে কে হারবে এটা আমাদের ইস্যু না। আমার আফসোস থাকবে ভোটাররা যদি নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে না যেতে পারে।”
ফুয়াদ অভিযোগ করেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি।
“রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বললে তিনি এসপিকে জানাতে বলেন, এসপিকে বললে তিনি বলেন তাদের এখতিয়ারে নেই। ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) তাদের কর্মকাণ্ডের দায়ে চাকরি হারিয়ে কারাগারে রয়েছেন। আমরা নির্বাচিত না হলেও নির্বাচনে কেউ পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
বরিশাল-৩ আসনের মুলাদী উপজেলার নদী বেষ্টিত তিনটি ইউনিয়নের ১৪ কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “এসব এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে এবং তাদের পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।”
বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জেলা ও মহানগর এবি পার্টির সদস্য সচিব জিএম রাব্বিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।