লঞ্চের ছাদে বসে মোবাইল দেখার সময় নদীতে পড়ে কলেজছাত্র নিখোঁজ
ঘটনার পর মেহেন্দিগঞ্জ-বরিশাল নৌ-রুটে চলাচলকারী এমএল লিমা লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় লঞ্চের ছাদে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় কালাবদর নদীতে পড়ে এক কলেজছাত্র নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের চরপশ্চিম এলাকার ভোলাই বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জের কালিগঞ্জ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ওসি এনামুল হক।
নিখোঁজ রাশেদুজ্জামান রানা (১৭) বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করেন।
পুলিশ জানায়, পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রানা রোববার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে যান। অনুষ্ঠান শেষে মঙ্গলবার সকালে তিনি পরিবারের সঙ্গে লঞ্চে বরিশালে ফিরছিলেন।
নৌ পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, লঞ্চটি মেহেন্দিগঞ্জের লেঙ্গুটিয়া ঘাট ছাড়ার পর রানা ছাদে ওঠেন এবং কাঠের ওপর বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি নদীতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর লঞ্চে হইচই শুরু হয়। কিছুদূর গিয়ে লঞ্চটি ঘুরিয়ে আনা হলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। রানা সাঁতার জানতেন বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে পায়ে ভারী জুতা থাকায় সাঁতার কাটতে না পারায় স্রোতে তলিয়ে যেতে পারেন।”
খবর পেয়ে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, লঞ্চের ছাদে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও ওই ঘটনায় বিধিনিষেধ অমান্য করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। ছাদে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ। নিয়ম ভঙ্গ করায় লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, লঞ্চটি বরিশাল নৌ বন্দরে না এসে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেটি আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
