Published : 11 Aug 2026, 08:10 PM
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও এবং সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বঞ্চিতরা এ তালা ঝুলিয়ে দেন।
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।
এদিন বেলা ১২টার দিকে উপজেলার বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। পরে তারা ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে প্রধান ফটকেও তালা লাগিয়ে দেন।
এরপর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. ইখতিয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া নিপন, পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মতিয়ার রহমান, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ওয়ালিউজ্জামান মণ্ডল রিয়েল বক্তব্য দেন।
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ বিএনপির নেতা বাবুল আহমেদের।
তিনি বলেন, “পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তা নিরপেক্ষতার বাইরে গিয়ে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের ‘এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
“ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি পাইলট প্রকল্প। অথচ যারা একসময় এই প্রকল্পকে ‘ফাইজলামি কার্ড’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন, তারাই এখন নিয়োগ পেয়েছেন।”
অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “যোগ্য প্রার্থীরাই নির্বাচিত হয়েছেন। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডগুলো পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করেছে।
“তবে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে, আমাকে জানাতে পারতেন। তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেত।”
তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিয়োগ বাতিল না করলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা।