২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফাল্গুনে মুখরিত গদখালির হাড়িয়ার মোড়

ফাল্গুনের প্রথম দিনে শত শত মানুষের সমাগমে মুখরিত হয়েছে ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালির ফুলের প্রাণকেন্দ্র 'হাড়িয়ার মোড়'।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আসাদুজ্জামান আসাদ, বেনাপোল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Feb 2022, 11:51 PM

Updated : 25 Oct 2022, 10:14 AM

সোমবার বসন্তবরণে নারী-পুরুষের মিলনমেলায় ভরে ওঠে এই ফুলের রাজ্য।

গদখালি বাজার থেকে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে পানিসারা 'হাড়িয়া মোড়ে' দেখা যায় দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়। পহেলা ফাল্গুন বসন্তবরণ ও ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে নবসাজে সাজানো হয়েছে এখানকার বিভিন্ন পর্যটন স্পট। দোকানিরা বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফুলের ব্যান্ড, ফুলের তোড়া থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে। বেচাবিক্রিও ভালো।

ভালোবাসা দিবস, বসন্তবরণ ও ভাষা দিবসকে বরণ করতে সারা দেশে যে ফুলের দরকার তার বিরাট একটি অংশ যায় এখান থেকে।

এবার ভালোবাসা দিবসের বড় আকর্ষণ নেদারল্যান্ডসের জাতীয় ফুল 'টিউলিপ' ও সুগন্ধি ফুল 'লিলিয়াম'। এছাড়া ভালোবাসা দিবসে রঙিন গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধা ও নানা রঙের গোলাপ তো রয়েছেই। গাঁদা ফুল বেশি বিক্রি হয় একুশে ফেব্রুয়ারি আর বসন্ত উৎসবে।

খুলনা থেকে এসেছেন আশরাফুন নাহার। তারা তিনটি পরিবার একসঙ্গে ঘুরতে এসেছেন।

আশরাফুন নাহার বলেন, "সপরিবারে ঘুরতে এসে খুবই মজা পাচ্ছি, এনজয় করছি। সারাটা দিন ঘুরছি। যান্ত্রিক জীবনে লাইফ এতটা জ্যাম হয়ে গিয়েছিল যে এখানে এসে প্রাণখুলে কথা বল্লাম, ঘুরলাম, ফুলের বাগানে বিভিন্ন রকম ফুল দেখলাম – মনটা ভালো হয়ে গেল।"

যশোর সদরের আফছানা আফরিন পাঁপড়ি বলেন, ভালোবাসা দিবস ও বসন্তের প্রথম দিনটা দেশের ফুলের রাজধানীতে এসে উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। সবাইকে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

সাতক্ষীরার কলারোয়ার গোপাল চন্দ্র দে বলেন, “দুবছর ঘরবন্দি ছিলাম। নির্ভয়ে বাইরে বেড়াতে যেতে পারিনি। এবার অন্তত ফুলের রাজ্যে আসতে পেরে আমি গর্বিত। বাংলাদেশের মানুষ যাতে নতুন বছরে বাধাহীন ও সুন্দরভাবে চলতে পারে এ আশা করছি।”

যশোরের একজন কলেজ শিক্ষিকা ফাতিমা খাতুন রানু বলেন, মহামারীর কারণে বাচ্চাদেরকে নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনি। তাই ফুলেদের কাছে এলাম, শরীর মন দুটোই ভালো হয়ে গেল। বাচ্চারাও আনন্দ পেল।”

বাঁকড়ার কামরুজ্জামান বলেন, “ফুলের রাজধানী যশোরের গদখালি এসে বসন্তের প্রথম দিনটি পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করতে পারছি খুবই ভালো লাগছে। খুব বেশি আনন্দ করেছি।”

বাগআচড়া থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মনিরুজ্জামান লিটন। 

লিটন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খুবই আনন্দ লাগছে এবং বেশ উপভোগ করছি ফাল্গুনের প্রথম দিনটি। বাড়ির পাশে হলেও ব্যস্ততায় দেখা হয়নি কোনো দিন। মেয়েরা মাথায় ফুলের ব্যান্ড কিনেছে। ওরা খুব উপভোগ করছে।”

যশোরের ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজের ছাত্রী ফারজানা আক্তার রিমি, তৃষা দেবনাথ, উম্মে আয়মান, সানজিদা খাতুন, সুমাইয়া তাবাসসুম ও লামিয়া উসমান এলিন এইচএসসি পরীক্ষায় ফল পেয়ে খুশিতে বেড়াতে এসেছেন ফুলের রাজ্যে।

ফারজানা আক্তার রিমি বলেন, “পরীক্ষা ফল পেয়েছি তাই কয় বান্ধবী মিলে ফুলের এখানে এসেছি ভালোবাসার দিনটি উপভোগ করতে। বান্ধবীদের উপহার দেওয়ার জন্য ফুল কিনেছি। ফুলের বাগানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি। সবাই মিলে বেশ আনন্দ করছি, যা বলার মতো নয়।”

স্থানীয় একজন তরুণ উদ্যোক্তা আল আমিন (২০) বলেন, “আমি গদখালি বাজারে ও অনলাইনে ফুল বিক্রি করি। গত তিন দিনের বেচাবিক্রি খুব ভালো। বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে শত শত নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে গদখালিতে। তারা আসে, ফুল কেনে, ফুলবাগানে গিয়ে ছবি তোলে। এইসব দিনগুলোতে একটা উৎসবের আমেজ তৈরি হয় এই এলাকায়।” 

"এবার দাম ও বেচাকেনা দুটোই ভাল হওয়ায় আমরা দারুণ খুশি। ফুলের উৎপাদন, চাহিদা ও দাম-সবই বেশ ভালো। এ অঞ্চলের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে," বলেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম।

আব্দুর রহিম বলেন, এবার ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণে পাঁচদিনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। ফুলচাষের সঙ্গে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষক এবং প্রায় এক লাখ শ্রমিক সম্পৃক্ত রয়েছেন।